শামীম হামিদ, টনটন (ইংল্যান্ড) থেকে
টনটন এমনিতেই ছোট একটা শহর। শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে দিনের বেলা কিছু লোকজনের দেখা মেলে। কিন্তু বাকি শহর একরকম ফাঁকা। বেশ কিছু পথ হাঁটার পর দুয়েকজনের দেখা পাওয়া যায়। মাত্র ৭০ হাজার জনসংখ্যার এই শহর জমে উঠে উইকএন্ডে। তাও সন্ধ্যার পর।
কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। শহর লোকে লোকারণ্য। মানুষ ছুটছে টনটন কাউন্টি গ্রাউন্ডের দিকে। গতকাল ছিলো বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ। এই শহরে দুটি দেশের প্রচুর মানুষ থাকেন। নিজের দেশ থেকেও ছুটে এসেছেন অনেক ক্রিকেট পাগল। টনটনের শেষ ম্যাচটা দেখার সুযোগ হারাতে চান না তারা।
স্টেডিয়ামের বাইরে দেখা গেল অন্যরকম উত্সব। দুই দেশের পতাকা, জার্সি বিক্রির ধুম পড়েছে। বিচিত্র ও রংচংয়ে পোশাকে প্রচুর ক্যারিবিয়ান সমর্থকের দেখা পাওয়া গেল। ছিল লাল সবুজ পতাকার সমর্থকও। সবাই সারিবদ্ধভাবে গ্যালারিতে প্রবেশ করছেন। কেউ কেউ সোল্লাসে চিত্কার করছেন। টিকেটের চাহিদা প্রচুর। মানুষ টিকেট খুঁজছে। এরই মাঝে কালোবাজারির হাঁকডাক শোনা গেল। কেনাবেচা দুটোই করছে তারা।
স্টেডিয়ামের ঠিক পাশ দিয়েই বয়ে গেছে টোন নদী। অদূরে সেন্ট জেমস গীর্জা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে গীর্জায় বিশেষ আয়োজন খেলা দেখতে আসা দর্শকদের জন্য। টনটনে বিশ্বকাপের যে তিনটি ম্যাচ ছিল প্রতিদিনই ওই গীর্জা খোলা ছিল। দর্শকদের অনেকেই হাজার বছরের প্রাচীন গীর্জায় ঢুঁ মেরেছেন। অতিথিদেরকে আপ্যায়িত করা হয়েছে কেক ও কোমল পানীয় দিয়ে।
গ্যালারিতে বেশ কিছু ক্যারিবিয়ান দর্শক থাকলেও বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসটাই ছিল চোখে পড়ার মত। ক্যারিবিয়ান ইনিংসের শুরুটা হয়েছিল মেডেন ওভার দিয়ে। চতুর্থ ওভারে ডেঞ্জারম্যান গেইলের বিদায়। ১৩ বলে শুন্য রানে গেইলের বিদায়ের পর নেচে উঠেছিল গ্যালারি। প্রতিপক্ষের ভিত কাঁপিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এর চেয়ে ভাল শুরু আর কী হতে পারে। মাশরাফি, সাইফুদ্দিনের একেকটা বলের সঙ্গে নেচে উঠছিলো গ্যালারি। উড়ছে লাল-সবুজ পতাকা। দর্শক উল্লাস যেন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হুঙ্কারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিল।
খেলা দেখতে আসা দর্শকদের কোনো আপত্তি ছিল না ছবি তোলার ব্যাপারে। ক্যারিবিয়ান দর্শকরা বরঞ্চ এতে খুশিই হয়। সামান্থা নামে এক ক্যারিবিয়ান নারী তার ছবি কোন পত্রিকায় ছাপা হবে তা জানতে চেয়ে বললো ‘আমি কিন্তু তোমার পেপার অনলাইনে দেখবো।’
রাসেল ও লরা নামে এক পৌঢ় দম্পতিও বর্ণাঢ্য পোশাক পরে খেলা দেখতে এসেছেন। রাসেল জানালেন, এটা জ্যামাইকার পোশাক। উত্সবের দিনে তারা এরকম পোশাক পরেন। কামাল নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি জানালেন, তিনি স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। খেলা দেখার জন্য ছুটি নিয়ে পুরো পরিবারসহ মাঠে এসেছেন।
নর্থ সমারসেট বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘সমারসেট প্রবাসী বাংলাদেশিরা ক্রিকেট খেলা খুব পছন্দ করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দেখার জন্য কমপক্ষে দুই হাজার স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি স্টেডিয়ামে যাবেন বলে আমার কাছে তথ্য রয়েছে। অনেকে টেলিভিশনে খেলা দেখবেন। আমরা বিদেশে থাকলেও বাংলাদেশ আমাদের অন্তরে। আমাদের সন্তানরা স্কুলে ও বিভিন্ন ক্লাবে ক্রিকেট খেলে। তারা সাকিব, তামিমকে ফলো করে।’
