আড়াই বছরেও আড়াই কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করতে পারেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোর। এক দফা সময় বাড়িয়েও শেষ করা যায়নি মুড়লি-মনিহার জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। আগামী জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা প্রকল্পের মেয়াদ। অথচ প্রকল্পের অগ্রগতি অর্ধেকও হয়নি। প্রায় আড়াই বছর ধরে চলছে প্রকল্পের কাজ। খুঁড়ে রাখা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন যাত্রীরা।
সূত্র জানায়, ২০২০ সালের জুনে যশোর শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম পূর্ব বারান্দিপাড়া থেকে মনিহার সিনেমা হল-মুড়লি মোড় পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কের (যশোর-খুলনা) ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল। এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে এ প্রকল্পের অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি সওজ। প্রায় আড়াই বছর ধরে ধীরগতিতে কাজ চলমান থাকায় সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
মুড়লি এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও মাত্র আড়াই কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়নি। এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। রাস্তা এবড়োখেবড়ো থাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। এতে যানজট বাড়ছে। মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছে।’ মনিহার এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই রোড নিয়ে দীর্ঘদিন ভুগছি। দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ হলে আমরা ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতাম।’ কোল্ডস্টোরেজ এলাকার আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাস্তার কাজ চলমান থাকায় মানুষের সীমাহীন ভোগান্তি হচ্ছে। ধুলোবালিতে আমাদের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইজিবাইক চালক সাইদুল জানান, কয়েক বছর ধরে রাস্তার কাজ চলছে। আর শেষ হয় না। যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়।’
রাস্তার দুই পাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। এতে তাদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ধুলাবালিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি একাকার হয়ে যায়। এতে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বাড়ছে। একই সঙ্গে এই রাস্তায় অসুস্থ মানুষ চলাচল করতে গিয়ে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ আসলাম আলী মোবাইলে ইত্তেফাককে বলেন, প্রথমদিকে করোনা একটা বাঁধা ছিল। সঙ্গে মনিহার এলাকার বিজয় স্মৃতিস্তম্ভটি বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে উদ্বোধন করা। এই এলাকার কিছু ফল ব্যবসায়ীসহ অন্যান্যের অবৈধ দখল রয়েছে। এসব নিয়ে আদালতে মামলা-মোকদ্দমা এখনো চলছে। বৈদ্যুতিক কিছু খুঁটিও অপসারণে বিলম্ব হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেও আমরা আগামী জুন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। যে মামলার কারণে কাজে বিলম্ব, সেই মামলা রেখে কীভাবে আগামী ছয় মাসে কাজ শেষ করা সম্ভব, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রশস্ততার কাজ কিছুটা ‘মিনিমাইজ আর কমপ্রোমাইজ’ করেই শেষ করতে চাইছি। সেক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে সড়ক প্রশস্ত হবে কি না, জানতে চাইলে বলেন, পরবর্তী সময়ে সড়কের মেইনটেন্যান্স বাজেট থেকে এটা করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সারা দেশেই এলসিনির্ভর বিটুমিন ও পাথরের সংকট রয়েছে মন্তব্য করে বলেন, এজন্য কাজ শেষ করা নিয়ে কিছুটা সংশয় যে নেই, তা নয়। তবে এটুকু একটা কাজ এভাবে পড়ে থাকাটা দেখতে আমাদেরও খারাপ লাগছে। বিষয়টা নিয়ে ২ জানুয়ারি যশোরে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সভা করে শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখতে আমাদেরও ভালো লাগছে না।
