ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে বাণিজ্য মেলায় আগতদের

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:২৬

বাণিজ্য মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা রীতিমতো ঝুঁকি নিয়ে পার্শ্ববর্তী ঢাকা বাইপাস সড়ক পারাপার করছেন। রাজধানীর কুড়িল-বিশ্বরোড থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে কে কার আগে মেলায় যাবেন এমন প্রতিযোগিতায় নামেন দর্শনার্থীরা। এভাবে রাস্তা পার হতে গিয়ে যে কোনো সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাই গতবারের স্থান, জনতা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাজউকের খালি মাঠে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বাণিজ্য মেলার পশ্চিম পাশ দিয়ে অবস্থিত এশিয়ান সড়ক নামে পরিচিত ঢাকা বাইপাস সড়ক। এ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ধুলাবালুতে সয়লাব এলাকাটি। সড়কের পশ্চিম পাশে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড অবস্থিত। বাস থেকে নেমেই সড়ক পার হয়ে দর্শনার্থীরা ছুটে যান মেলার পূর্বপাশে অবস্থিত টিকিট কাউন্টারে। টিকিট সংগ্রহ করেই আবার পশ্চিম দিকে ছুটে আসেন বাণিজ্য মেলার প্রবেশ গেটে। তাতে একদিকে সৃষ্টি হয় ঢাকা বাইপাস সড়কে যানজট। অন্যদিকে দর্শনার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হতে হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে গতবারের স্থানে বাসস্ট্যান্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

গতকাল রাজধানীর উত্তরা থেকে সপরিবারে বিআরটিসি বাসে করে মেলায় আসেন ওবায়দুল মজিদ জুয়েল মাস্টার। কথা হয় তার সঙ্গে।  তিনি বলেন, মেলার পূর্বদিকে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রাজউকের খালি মাঠ। এ মাঠে শতাধিক বিআরটিসি বাস রাখা সম্ভব। সেখানেই বাসস্ট্যান্ড ও কাউন্টার হলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। মালিবাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আফসানা আক্তার পাঁচ বান্ধবীর সঙ্গে বিআরটিসি বাসে মেলায় আসেন। গত বছরও সপরিবারে তিনি মেলায় এসেছিলেন। আগের বছরের তুলনায় এবার মেলায় এসে ঝামেলায় পড়েছেন। ধুলাবালু আর ব্যস্ত সড়ক পারাপারে তাদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে জানান। 

মেলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম শিমুলিয়া এলাকার রিটন প্রধান বলেন, রাজউকের খালি মাঠে বাসস্ট্যান্ড হলে সেখান থেকে যাত্রী তুলে কালীগঞ্জ-রূপগঞ্জ সড়ক দিয়ে কাঞ্চন সেতুর আন্ডারপাস পার হয়ে বিআরটিসি বাস ঢাকায় আসা যাওয়া করলে এখানকার যানজট ও ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন বলেন, রাজউকের খালি জায়গায় বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড হলে ঐ বিদ্যালয়ের পাঠদানে কোনো সমস্যা হবে না। মেলার ক্রেতা, দর্শনার্থী ও বাসযাত্রীদের চলাচলে সুবিধা হবে।

রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, বাসযাত্রী, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের প্রয়োজনে মেলার পার্শ্ববর্তী যে কোনো স্থানে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড হতে পারে। তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে ঢাকা বাইপাস সড়কের পূর্ব পাশে কিংবা রাজউকের খালি মাঠে বাসস্ট্যান্ড হলে সকলের সুবিধা হবে।

কুড়িল-ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা সড়কের বিআরটিসি বাসের ইনচার্জ মাসুদ তালুকদার বলেন, বাণিজ্য মেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের সার্বিক যানজট এড়াতে বাসস্ট্যান্ড সরানো হয়েছে। তবে ঢাকা বাইপাস সড়কের মেলার দর্শনার্থীদের পারাপারের ঝুঁকি এড়াতে গতবারের স্থানে বাসস্ট্যান্ড পুনঃস্থাপন করা যায় কি না, বিবেচনা করা হবে।

 

ইত্তেফাক/ইআ