রাজধানীর পূর্বাচলে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে চলছে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলার নবম দিনেও গতকাল সোমবার স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও প্যাভিলিয়নের নির্মাণকাজ চলেছে। নানা প্রতিকূলতায় ১৪/১৫টি স্টল এখনো বিক্রি হয়নি। স্টল বিক্রি ও বরাদ্দের কাজ চলমান। এসব স্টল নির্মাণকাজ শেষ হতে আরো চার-পাঁচ দিন সময় লাগবে। তবে অবিক্রীত স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও প্যাভিলিয়ন নতুন করে বিক্রি ও বরাদ্দ দেওয়া হলে ঐ সব স্টল নির্মাণে আরও সময় লাগবে। এই প্রতিকূলতায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
নির্মাণকাজ বাকি—এমন সব স্টলের ঠিকাদার ও কারিগররা জানান, মেলায় কিছু স্টলের কাজ শেষ হয়নি। তবে আগামী চার/পাঁচ দিনের মধ্যে বরাদ্দকৃত স্টলের নির্মাণকাজ শেষ হবে। মেলায় এবার কিছু স্টল বিক্রি ও বরাদ্দ দেরিতে দেওয়া হয়েছে। স্টল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা নির্মাণ কাজ করতে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন। চাহিদা অনুযায়ী নির্মাণশ্রমিক পাওয়া যায় না। রঙের মিস্ত্রির অভাব। নানা প্রতিকূলতায় স্টল নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লাগে। তাতে ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বাণিজ্য মেলা কর্তৃপক্ষ স্টল বরাদ্দ দিলেও, বরাদ্দপ্রাপ্তদের কেউ কেউ বেশি লাভের আশায় স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও প্যাভিলিয়ন অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে বিক্রি করে দেন। সে কারণেও স্টল নির্মাণে দেরি হয়। মেলায় স্টল তৈরির ঠিকাদারির কাজ করেন কাঠমিস্ত্রি গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার। তিনি গত ১৮ বছর ধরে বাণিজ্য মেলায় স্টল নির্মাণের কাজ করছেন। ২০/২৫ জন ঠিকাদার মেলায় স্টল তৈরির কাজ করেন। কাজের ধরন ও গতিভেদে মিস্ত্রিদের দৈনিক ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা মজুরি দেন। ডিজাইন অনুসারে একেকটি স্টল তৈরি করতে ৪০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগে।
মেলায় চারটি স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন মো. খোকন মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে তিনি ঐ স্টলগুলো অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেন। ২০ বর্গফুটের এক একটি স্টল বিক্রি হয় ১০ লাখ টাকায়। বেশির ভাগ স্টলই বিক্রি করা শেষ। সেগুলোর তৈরির কাজ চলছে। স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন, প্যাভিলিয়ন, ফুডস্টল, রেস্তোরাঁ, প্রবেশ টিকিট ইজারা, বিজ্ঞাপন প্রচার, এটিএম বুথ, মা ও শিশু কেন্দ্রের ন্যূনতম ফ্লোর ভাড়া ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সে কারণেও ব্যবসায়ীরা স্টল বরাদ্দ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ বরাদ্দ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব বিবেক সরকার বলেন, বাণিজ্য মেলার অধিকাংশ স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন, প্যাভিলিয়ন অনেক আগেই বিক্রি ও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর নির্মাণকাজ শেষ। সেখানে ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করছেন। তবে মেলার যাতায়াতের দিক থেকে উলটা কিংবা পেছনের দিকের বেশ কিছু স্টল এখনো বিক্রি হয়নি। বরাদ্দও দেওয়া হয়নি। নির্মাণাধীন বরাদ্দকৃত স্টলের নির্মাণকাজ আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
