চাটখিল ও সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী) সংবাদদাতা
চাটখিলের খিলপাড়া সাব পোস্ট অফিসে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের বিভিন্ন স্কিমে জমা দেওয়া প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগ উঠেছে পোস্ট মাস্টার নুর করিমের বিরুদ্ধে। এজন্য নূর করিমকে খিলপাড়া থেকে ডিভিশনাল অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে গ্রাহকগণ পোস্ট অফিসে এসে ভিড় জমাচ্ছে। তাদের গচ্ছিত টাকার অফিসে কোনো রেকর্ড না থাকায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
জানা গেছে, পোস্ট মাস্টার নূর করিম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে প্রভাবশালী ২/১ ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গত ১০ বছর থেকে খিলপাড়া সাব পোস্ট অফিসে কর্মরত আছেন এর মধ্যে কিছুদিনের জন্য কড়িহাটিতে বদলি হলেও তিনি সেখানে না গিয়ে খিলপাড়ায় ডেপুটেশনে কাজ করে, পরে আবার খিলপাড়ায় বদলি হয়। এ সময় পাঁচ শতাধিক ডাক বিভাগের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, মেয়াদি সঞ্চয়পত্র, এফডি, ডিপিএসসহ প্রায় ১০ কোটি টাকা তার মাধ্যমে পোস্ট অফিসে গচ্ছিত রাখেন। পোস্ট মাস্টার নূর করিম অতি কৌশলে ডাক বিভাগের রেজিস্টারে গ্রাহকের নাম ও টাকা জমা না দিয়ে, জমার পাশ বই ইস্যু না করে সাদা কাগজে টাকার পরিমাণ লিখে ব্যক্তিগত সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে রিসিট প্রদান করেন, আবার কখনো পাশ বই দিয়েছেন। কিন্তু রেজিস্টারে কোনো রেকর্ড করেনি। এভাবে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে তিনি এ টাকা আত্মসাত্ করেছেন। আবার রেজিস্টারে অনেকের নাম ও জমার তারিখেও ভুল রয়েছে।
সম্প্রতি নূর করিমকে ছাতারপাইয়া পোস্ট অফিসে বদলি করলে তিনি সেখানে যেতে গড়িমসি করায় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তার এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ফাঁস হয়। এরপর থেকে প্রতিদিন শত শত গ্রাহক পোস্ট মাস্টারের দেওয়া কাগজপত্র নিয়ে এসে পোস্ট অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু রেজিস্টারে তাদের কোনো রেকর্ড পাচ্ছেন না। খিলপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী নুর আলমের ২০ লাখ, খিলপাড়া গ্রামের কামরুল আহসানের ৪৫ লাখ, সাধন চন্দ্র মালাকারের ৩৫ লাখ, নূর হোসেনের ১০ লাখ, শিউলী রানি পালের ৫ লাখ, দেবব্রত পালের ২ লাখ, শংকরপুর গ্রামের কোহিনুর বেগমের ৫ লাখসহ ৫ শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ১০ কোটি টাকার কোনো হদিস নেই। এই টাকা সম্পূর্ণরূপে পোস্ট মাস্টার নুর করিম আত্মসাত্ করেছেন। পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে সাধন চন্দ্র মালাকারের ৩৫ লাখ টাকার কোনো হদিস না পেয়ে তিনি এখন বাকরুদ্ধ। এভাবে আরো অনেকেই। বর্তমানে নুর করিমকে বিভাগীয় অফিসে রাখা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে নুর করিম টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তিনি এ টাকা দিয়ে তার ছেলে ও ভাতিজাকে আমেরিকায় পাঠিয়েছেন, এলাকায় কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি ক্রয় করেছেন, কয়েকটি সিএনজি কিনে ভাড়া দিয়েছেন। গত কয়েকদিনে কয়েকজন গ্রাহককে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন।
কয়েকজন গ্রাহক জানান, তাদের নিকট পাশ বই আছে পোস্ট মাস্টার সিল ও স্বাক্ষর করা টাকা আদায়ের ডকুমেন্ট আছে এটা রেজিস্টারে আছে কি নাই তা তাদের দেখার বিষয় নয়, এটি ডাক বিভাগের ব্যাপার। তারা তাদের গচ্ছিত টাকা না পেলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন। ইতোমধ্যে তারা বৈঠক করেছেন।
জেলার ডিপিএমজি মনিরুজ্জামান, জোনাল ইন্সপেক্টর হামিদ আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে পরিদর্শন করে অফিসের অনেক কাগজপত্র জব্দ করেছেন। জোনাল ইন্সপেক্টর হামিদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান নূর করিমের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে যাচাই বাছাই চলছে, হিসেবেও গড়মিল আছে। তদন্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
জেলার ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মনিরুজ্জামান জানান, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
