আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেছেন, বিগত দিনে বিএনপি ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে যেভাবে পরাস্ত করা হয়েছে, প্রগতিশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যের মাধ্যমে এই শক্তিকে আগামীতেও পরাস্ত করতে হবে। এজন্য স্বাধীনতার সপক্ষের ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে গণতান্ত্রিক চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া বড় প্রয়োজন। এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে।
রবিবার রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টি-জেপির ‘ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল-২০২৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতাকে সুসংহত করার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন, বঙ্গবন্ধু সেটি পাননি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু পেয়েছেন ৩০ লাখ শহিদের পরিবার ও একটি ধ্বংসস্তূপ। এই পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তাছাড়া পাকিস্তান আমলে এখানে রাষ্ট্রকাঠামো ছিল না। যখন তিনি রাষ্ট্রকাঠামো দেওয়ার কাজ শুরু করলেন, তখনই ঘাতকরা তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করল। এর মাধ্যমে জাতিকে পিছনে ঠেলে দেওয়া হলো, সংবিধান থেকে চার মূলনীতি ছুড়ে ফেলে দেওয়া হলো। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে শুরু করেছেন, তখন নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় পার্টি-জেপির এবারের কাউন্সিলের প্রতিপাদ্য বিষয়, ‘সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েমের প্রত্যয়’।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি দেশকে সামরিক শাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।
