সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

১৩ বছরের শিক্ষার্থীকে ৪৭ বছরের শিক্ষকের প্রেমপত্র, এরপর... 

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ২১:১৩

অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমে পড়েছেন ৪৭ বছরের এক স্কুল শিক্ষক। ১৩ বছরের সেই শিক্ষার্থীকে একপাতার প্রেমপত্রও লিখে পাঠিয়েছেন। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের প্রেমপত্রের কথা পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশের বল্লারপুরের একটি কম্পোজিট স্কুলে ঘটেছে এ ঘটনা।  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (৭ জানুয়ারি) এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিক্ষার্থী বাবা। শ্লীলতাহানির অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। 

জানা যায়, হরিওম সিং নামে ওই শিক্ষক এক পৃষ্ঠার প্রেমপত্রে ছাত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করেন। তিনি ওই শিক্ষার্থীকে চিঠিটি পড়ার পর ছিঁড়ে ফেলতেও বলেন। ওই শিক্ষক প্রেমপত্রটি একটি শুভেচ্ছা কার্ডে লুকিয়ে রাখেন এবং গত ৩০ ডিসেম্বর তার ছাত্রীকে দেন। 

দেশটির স্থানীয় পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, প্রেমপত্রে ছাত্রীর নাম লিখেছেন শিক্ষক। লিখেছেন, তিনি ছাত্রীকে অসম্ভব ভালবাসেন। স্কুলে লম্বা ছুটি পড়ে গেলে তার অভাব বোধ করবেন। আরও লেখেন, স্কুল যখন ছুটি থাকবে তখন যেন সে শিক্ষকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখে। 

ওই শিক্ষক আরও লিখেছেন, স্কুল বন্ধ হওয়ার আগে যেন তার সঙ্গে একবার দেখা করে, যদি সত্যিই ছাত্রী তাকে ভালোবাসে। শিক্ষকের কাছ থেকে এমন চিঠি পাওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী তার মা-বাবাকে পুরো ঘটনা বলে দেয়। সে শিক্ষকের লেখা চিঠি পরিবারের হাতে তুলে দেয়। 

শিক্ষকের এমন কাজে ক্ষিপ্ত হন মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা। তারা ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে এই কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেন। তবে এতে ক্ষমা চাননি ওই শিক্ষক। তিনি উল্টো তাদের মেয়েকে গায়েব করে দেওয়ার হুমকি দেন। এর পরেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে সেই ছাত্রীর পরিবার। শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগও দায়ের করা হয়।

স্থানীয় এসপি কানওয়ার সিং অনুপম জানায়, ছাত্রীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনায় শোরগোল শুরু হওয়ায় নড়চড়ে বসে জেলা শিক্ষা দপ্তর। 

দেশটির স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা কৌস্তভ সিংহ বলেন, তদন্তের জন্য একটি দল গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।  

ইত্তেফাক/এসআর