প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কুড়িগ্রামে তিন উপজেলা রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারীর সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রেখেছেন শিক্ষকরা। রৌমারী উপজেলার কিছু প্রতিষ্ঠান সকালে খোলা হলেও কিছুক্ষণ পর তা বন্ধ করা হয়। গত রবিবার তিন উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রেখে প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি রৌমারী উপজেলা শহরে বউভাতের দাওয়াতে যান তারা। এ সময় উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, চিলমারী উপজেলায় ৯৩টি, রৌমারীতে ১১৫টি এবং রাজীবপুর উপজেলায় ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ঐ দিন ২৬৫টি স্কুলেই ছুটি ঘোষণা করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য।
একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রৌমারীতে অবস্থিত প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনে তার একমাত্র ছেলে সাফায়াত বিন জাকিরের (সৌরভ) বিবাহোত্তর বউভাত অনুষ্ঠান ছিল। সব শিক্ষক ও কর্মচারীকে সেখানে যেতে বলা হয়। শিক্ষকরা দাওয়াতে অংশ নিতে যাবেন এজন্য রবিবার পাঠদান বন্ধ ছিল। এছাড়া বিয়ের উপহার নিতে জনপ্রতি বাধ্যতামূলকভাবে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিয়ের দাওয়াতে গেছেন বলে জানান। তবে বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রচণ্ড শীতের কারণে প্রধান শিক্ষকরা তাদের ক্ষমতাবলে ছুটি দিয়েছেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা এমন পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকরা বছরে তিন দিন ছুটি দিতে পারেন। সেই সংরক্ষিত ছুটি থেকে একদিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষা বিভাগ অবহিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
