বিদ্যুত্সংযোগে ই-টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৯, ২১:৪৭

গত ১৩ জুন মহান জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবত্সরের বাজেট উপস্থাপন করা হইয়াছে। এই বাজেটে পরিষেবা হিসাবে যাহার নামেই বিদ্যুত্সংযোগ থাকিবে, তাহাকেই কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন নিতে হইবে বলিয়া প্রস্তাব করা হইয়াছে। শুরুতে ঢাকাসহ দেশের সব কয়টি সিটি করপোরেশন এলাকার বিদ্যুত্ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইহা চালু হইবে। আগে সিটি করপোরেশন এলাকায় কেবল বাণিজ্যিক বিদ্যুত্সংযোগের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ছিল ই-টিআইএন। এখন এইসব এলাকার সকল বিদ্যুত্ গ্রাহক ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন। আর বাণিজ্যিক গ্রাহকের জন্য ই-টিআইএন থাকিবার বাধ্যবাধকতা এখন বিস্তৃত করা হইবে জেলা পর্যায়েও। সাধারণ বিদ্যুত্ গ্রাহকদের প্রতি ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করায় কোনো কোনো মহলে প্রশ্ন উঠিয়াছে। যদিও ই-টিআইএন থাকা মানেই কর দেওয়া নহে। যদি কাহারও আয় করযোগ্য হয়, তবেই তাহাকে কর দিতে হইবে। করযোগ্য না হইলে কেবল রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে। সুতরাং ইহাতে উদ্বিগ্ন হইবার কোনো কারণ নাই। তাহা ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ইহা বাধ্যতামূলক করা হইতেছে। জেলা কিংবা গ্রাম পর্যায়ে আপাতত ইহার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকিতেছে না।

দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করিতে হইলে আমাদের অবশ্যই যথাযথভাবে কর দিতে হইবে। বাড়াইতে হইবে করের আওতাও। দুঃখজনক হইল, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে কর দেওয়ার হার আশানুরূপ নহে। বর্তমানে দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা ৪০ লক্ষাধিক। ইহার মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেন ২০ লক্ষের কাছাকাছি। কর দেন তাহারও কম। সকল টিআইএনধারীর রিটার্ন দাখিল না করাটা কর বিভাগের ব্যর্থতা। বর্তমানে ৩১ ধরনের ব্যবসায় ও সেবায় টিআইএন বাধ্যতামূলক। উপর্যুক্ত প্রস্তাবের কারণে সিটি করপোরেশন এলাকায় যাঁহারা বস্তিতে থাকেন, তাঁহাদের জীবন দুর্বিষহ হইয়া পড়িবে, এমন কথা আমরা বলিব না, কেননা তাঁহাদের আয় করযোগ্য না হইলে কেবল রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে। এই রিটার্ন দাখিলের সংস্কৃতি বৃদ্ধি পাওয়া আবশ্যক। তবে এই ক্ষেত্রে দেখিতে হইবে কেহ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন। রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া অবশ্যই আরো সহজতর ও আধুনিক করিতে হইবে।

এবারের বাজেটে করদাতার সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত করিবার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হইয়াছে। যেখানে দেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষ বাস করেন, সেখানে এই সংখ্যা খুব বেশি নহে। আবার এই কথাও সত্য যে, আমাদের দেশে সকলেই কর দেন। এমনকি দুধের শিশু ও মায়ের গর্ভে থাকা শিশুকেও কর দিতে হয়। কেননা এই দেশে প্রত্যক্ষ করের তুলনায় অপ্রত্যক্ষ করই বেশি। ভ্যালু অ্যাড হয় না তাহার পরও এমন অনেক খাত রহিয়াছে, যেখানে নেওয়া হয় ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট। উন্নত দেশে ডাইরেক্ট ট্যাক্স বা প্রত্যক্ষ করের হার বেশি। আমরা যেহেতু উন্নত দেশের দিকে ধাবিত হইতেছি, তাই ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স বা অপ্রত্যক্ষ কর কীভাবে কমানো যায়, তাহা লইয়াও চিন্তাভাবনা করিতে হইবে। আমরা মনে করি, অপ্রত্যক্ষ করের বোঝা কমাইলে মানুষ প্রত্যক্ষ কর দিতে অধিক উত্সাহী হইবে। তখন বিদ্যুত্সংযোগ কেন, অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও ই-টিআইএন গ্রহণে মানুষ আপত্তি করিবে না।