সাজ্জাদ হোসেন
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির বিশ্ব নামেই খ্যাত। দিন বদলের সাথে এর উত্কর্ষতার চিত্রটাও দৃশ্যমান। বিজ্ঞানের কল্যাণ পুরো বিশ্বটাকে হাতের মুঠোয় পুড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের মূল্যবান সময়কে বাঁচাতে ও কাজকে আরো সহজ করতে এর ব্যবহারের বিকল্প নেই। হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা প্রিয়জনকে নিমিষেই নিয়ে আসছে ছোট্ট মুঠোফোনের স্ক্রিনে। ঘরে, অফিসে, খেলার মাঠ থেকে শুরু করে কৃষকের ফসল ফলানোর মাঠের প্রত্যেকটি কাজ সম্পাদনার জন্য প্রযুক্তির উপর ঝুঁকছে মানবজাতি।
তেমনি পরিবর্তন এসেছে স্মার্ট ফোন গেমিং প্রযুক্তিতেও। পূর্বের মতোন খেলার জন্য বাধ্যতামূলক সুবিশাল মাঠ এখন আর প্রয়োজন পড়ে না। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক গেম খেলা যায় এন্ড্রোয়েট ভার্সন মোবাইল ফোনগুলোয়। সেরকম এক জনপ্রিয় গেমের নাম ‘পাবজি’। এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ‘প্লেয়ার আননোওন’স ব্যাটল গ্রাউন্ড’ (পিইউবিজি বা পাবজি)। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে ভয়ংকর নেশায় পরিণত হয়েছে গেমটি। খেলাটি দীর্ঘ মিশন সম্পন্ন হওয়াতে এর লক্ষ্যসন্ধান পূর্ণ করতে যেমন সময় নষ্ট হয় তেমনি মানসিক চাপের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে এই খেলার নেশার তীব্রতায় ঘটেছে নানা রকম অপ্রীতিকর ঘটনা। বারবারই শোনা গিয়েছে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে কেউ কেউ। সম্প্রতি টানা ছয় ঘণ্টা পাবজি খেলে ভারতের রাজস্থানের নাসিরবাদ শহরের ১৬ বছরের এক কিশোরের মৃত্যুতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
খেলার ছলে প্রশ্রয় দেয় রক্ত, মৃত্যু, খুন, জয়। কারণ খেলাটিতে একশজন খেলোয়াড় একটি দ্বীপে প্যারাসুট দিয়ে নামে এবং বিভিন্ন অস্ত্র-সরঞ্জাম দিয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হয়। ম্যাপের বিভিন্ন স্থান হতে অস্ত্র-সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে হয়। ম্যাপের সেইফজোনের আকার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোট হতে থাকে, খেলোয়াড়দের একে অন্যকে সাক্ষাত্ যুদ্ধ করানোর জন্য। নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে লাস্ট ম্যান স্ট্যাডিং হিসেবে যেই থাকে সেই হয় বিজয়ী। মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ধ্বংসাত্মক মনোভাবকে টেনে বার করে আনে এই গেম। শিশুদের মাঝে আক্রমণাত্মক প্রবণতাকে বাড়িয়ে দেয় এই ভয়ংকর খেলা। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আচার আচরণেও।
একসময় ক্লাস অফ ক্লান এবং ব্লু হোয়েল নামক গেম যুবক সমাজে বেশ নেতিবাচক সমালোচনার জায়গা কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বাজারে পাবজি এর স্থান দখল করে নিয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে হয়তো এরো জনপ্রিয়তা হারিয়ে অন্য কোনো খেলা আবেদন তৈরি করবে। তখন শুধু ফেলতে হবে দীর্ঘশ্বাস নষ্ট করা সময়ের জন্য। ছাত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এই নিছক একটি গেমের জন্য হারিয়েছি কথাটি ভাবতেই আফসোসের ছায়া নেমে আসবে। তাই পরবর্তীকালে এমন কোনো গেম তরুণ সমাজকে ধ্বংসেরমুখে ঠেলে দিতে না পারে সে বিষয় নিয়ে আমাদেরি ভাবতে হবে। সুদূর বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ আজকের তরুণ প্রজন্মকে ঘিরেই। তাদের চিন্তার প্রগাঢ়তাকে কেবল একটি সীমানায় ঘিরে রাখা যায় না। অদম্য চিন্তায় তারা হবে মহিয়ান। সকল প্রতিবন্ধকতাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ছিনিয়ে আনবে এক প্রজ্বলিত বাংলাদেশ।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
