ধান ও চাল শূন্য ভেড়ামারা খাদ্য গুদাম

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:৩৪

চলতি মৌসুমে দাম কম হওয়ায় ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারেনি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা খাদ্য গুদাম। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষক ও মিল মালিকদের দাবি, সরকারিভাবে দাম বাড়াতে হবে। তা না হলে গুদামে ধান ও চাল দিয়ে তাদের লোকসান হবে। খাদ্য গুদাম ধান ও চাল সংগ্রহের আশা ছেড়ে দিয়েছে। ১৭ নভেম্বর সারা দেশে একযোগে আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হয়। ওই দিন খাদ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করেন।

তবে উদ্বোধনের পর প্রায় দুই মাস পার হয়ে গেলেও দাম কম হওয়ায় ভেড়ামারা খাদ্য গুদামে চলতি মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারেনি।

ভেড়ামারা খাদ্য গুদামের কার্যালয়ের তথ্যমতে, ভেড়ামারা উপজেলায় এবার ৪০৯ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। কিন্তু গত দুই মাসে এক টন ধানও সংগ্রহ করা যায়নি। ধান নিয়ে কৃষকরা গুদামে আসছেন না। সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ধরেছে এক হাজার ১২০ টাকা (কেজি ২৮ টাকা)। বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ধান সংগ্রহের আশা ছেড়েই দিয়েছে খাদ্য গুদাম। এবার এ উপজেলায় ৪৬ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

এদিকে, চাল সংগ্রহে প্রতি কেজির সরকারি দর ৪২ টাকা। এই দরে চাল দিতে গিয়ে লোকসানে পরবেন বলে দাবি করেছেন মিল মালিকরা।

কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, খাদ্য গুদামের চেয়ে বাজারে বেশি দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। তাই আমরা গুদামে কম দামে ধান দিচ্ছি না। তাছাড়া সেখানে অনেক ঝামেলাও হয়।

চাল ব্যবসায়ী হাসান বলেন, সরকার যে দামে ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছে সেই দামে ধান কিনে চাল তৈরি করতে গেলে ৪৫ টাকার কমে দিলে লোকসান হবে। আশায় আছেন সরকার চালের সংগ্রহ মূল্য কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বাড়িয়ে দেবে। বাজারে ধানের দাম না কমলে সবাই চাল দিতে পারবেন না।

ভেড়ামারা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিরাজ হোসাইন বলেন, চলতি মৌসুমে দাম কম হওয়ায় ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারেনি। ভেড়ামারা উপজেলায় এবার ৪০৯ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এবং ভেড়ামারা উপজেলায় এবার ৪৬ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, সরকারের ধান সংগ্রহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বাজারেই কৃষক ভালো দাম পাচ্ছেন। এতে সংগ্রহ অভিযানের উদ্দেশ্য সফলের চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/আরএজে