দেশে বিনিয়োগের অভাব অর্থনীতিতে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ বাজেটে নেওয়া হয়নি। সুশাসনের ঘাটতিও বিনিয়োগের একটি বড় সমস্যা। পুঁজির সহজলভ্যতাও নেই।
২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় বাজেটে বলা হয়নি।
ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নুরুল ইসলাম। আলোচক ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এবং ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শেহজাদ মুনিম।
মির্জ্জা আজিজ বলেন, অর্থনীতিতে বড় সমস্যা বিনিয়োগ নেই। সহজে ব্যবসা করার সূচকে (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিনিয়োগের আরো একটি বড় সমস্যা পুঁজির সহজলভ্যতা নেই। কারণ পুঁজির দুটি খাত— ব্যাংক ও পুিঁজবাজার দুটিই সমস্যাগ্রস্ত। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে ব্যাংকের সিরিয়াস অবস্থা। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিনিয়োগ না হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছে না। এবারের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু বিতরণ হয়েছে মাত্র ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাজেটে মূল সমস্যা রাজস্ব আদায়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার জরুরি। প্রশাসন ও কর আদায়ব্যবস্থা আলাদা করা ছাড়া রাজস্ব খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হলো টেলিকম খাত। করপোরেট, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণশুল্কসহ সব ধরনের কর দেয় এ খাত। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইলে কথা বলার ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। অর্থনীতিতে আরেকটি অবাক বিষয় হলো, বিনিয়োগ বাড়েনি। কিন্তু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। তাঁর মতে, অর্থনীতিতে একটি হিসাব রয়েছে, যা হলো ইনক্রিমেন্টাল ক্যাপিটাল আউটপুট রেশিও। এটি হলো ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির জন্য জিডিপির কত শতাংশ বিনিয়োগ দরকার। এ হিসাবে যে প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে, বিনিয়োগের হিসাবে তা অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে হিসাবে কোনো সমস্যা থাকতে পারে।
শেজাদ মুনিম বলেন, বাজেটের ধারাবাহিকতা রয়েছে। এটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু বিভিন্ন কর প্রস্তাব বিনিয়োগের জন্য উত্সাহব্যাঞ্জক নয়। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কোম্পানির রিজার্ভ এবং রিটেইন আর্নিংসের ক্ষেত্রে যে কর আরোপ করা হয়েছে, সেটি যৌক্তিক নয়।
