ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবি জয়দুল হোসেনের জন্মজয়ন্তী উদযাপন

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩, ২২:০৭

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেনের ৬৮তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গিতাঙ্গনের সরোদ মঞ্চে তার জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জয়দুল হোসেন একজন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক। বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রান্তিক পর্যায়ে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা ও নির্যাতন বিষয়ে গবেষণা করে আসছেন। তার গবেষণালব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে। নিভৃতচারী অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে খুঁজে বের করে তিনি তাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিকথা এবং বর্তমান জীবনবাস্তবতা তুলে ধরেছেন লেখায়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের বধ্যভূমি ও গণকবর জরিপ করেছেন। শুধু তা-ই নয় সেসব বধ্যভূমি ও গণকবর সংরক্ষণেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রয়েছে তার লেখা একাধিক গ্রন্থ।  এছাড়াও কবি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে দেশ জুড়ে তার সুনাম রয়েছে। 

বক্তারা আরও বলেন, জয়দুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা বাংলাদেশের সাংস্কৃতি অঙ্গনে অবদান রেখে চলেছেন। তিনি কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপস করেননি। দেশের ক্রান্তিলগ্নে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনেও সোচ্চার ছিলেন। তার নেতৃত্বে অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। সংস্কৃতি চর্চায় অগ্রভাগে থেকে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে চলেছন।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেনের ৬৮তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণায় অবদানের জন্যজয়দুল হোসেনকে জাতীয়ভাবে পুরষ্কৃত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জয়দুল হোসেনকে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন নিজ নিজ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে কবি জয়দুল হোসেনের কবিতা অবলম্বনে সোহেল আহাদের গ্রন্থনা ও নুসরাত জাহান বুশরার নির্দেশনায় 'তিতাস বন্দনা'র দলীয় পরিবেশন করেন সাহিত্য একাডেমির আবৃত্তিশির্পীরা। অবৃত্তিতে অংশ নেন বুশরা, আমান উল্লাহ, তৃপ্তি, রামিম, সাফা, পূর্ণীমা, বর্ষা, সোনিয়া, তিলোত্তমা, নূরুল্লাহ্, হাবিবুল্লাহ, আবির, শুভ্র, আপন দাস প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেনের ৬৮তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গিতাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কবি মো. আ. কুদ্দুস। 

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাহিত্য একাডেমির উপদেষ্টা এডভোকেট আবু তাহের, কবি আবদুল মান্নান সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আরজু, রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি মানবর্দ্ধন পাল ও সহসভাপতি ডা. অরুণাভ পোদ্দার, চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের উপাধ্যক্ষ একেএম শিবলী, উদীচীর জেলা সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভুইয়া স্বপন, জেলা খেলাঘর সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য সচিব সঞ্জীব ভট্টাচার্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট লোকমান হোসেন, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট অঞ্চল) মনির হোসেন, গোকর্ণ ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল ভৌমিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু নাট্যমের সম্পাদক নিয়াজ মুহম্মদ খান বিটু, চেতনায় স্বদেশ পাঠাগার সভাপতি আমির হোসেন, অদ্বৈত গবেষক এডভোকেট মানিক রতন শর্মা, নোঙর সভাপতি শামীম আহমেদ।

এছাড়াও নারী নেত্রী নন্দিতা গুহ, নেলী আক্তার, ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জামিনুর রহমান, নতুন মাত্রার সভাপতি আল আমিন শাহীন, দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিবেদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সাহিত্য একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন, পাভেল রহমান, এটিএম মহসিন, নাসিম আহমেদ, কবির কলম সভাপতি হুমায়ুন কবির, ঝিলমিল শিশু-কিশোর পরিচালক মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ,  তিতাস আবৃত্তি সংগঠন, কবি রুদ্র মুহম্মদ ইদ্রিস, কবি  সৈম আকবর, গণগ্রন্থাগার কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম লিমন, আবরনি নির্বাহী পরিচালক হাবিবুর রহমান পারভেজ ও শারমিন সুলতানা, সোনালী সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির, নমপ্র থিয়েটার এবং সোনালী সকালের শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোহেল আহাদ।

ইত্তেফাক/এএইচপি