রাজধানীর মুগদার মানিকনগর এলাকায় রোকসানা আক্তার রুবি (৩২) তার নিজের সাড়ে তিন বছরের কন্যাসন্তানকে আইসক্রিমের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেছে। পরে রুবি নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তবে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বর্তমানে ওই মা পুলিশ হেফাজতে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। নিহত শিশুর নাম রোজার ফারদীন। গত রবিবার দিবাগত রাতে নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটায় রুবি নামের ওই নারী। তবে কী কারণে ওই নারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার কারণ জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, রোকসানা আক্তার রুবির স্বামীর নাম মন্জুর হাসান রাসেল। তাদের একমাত্র সন্তান রোজার ফারদীন। তারা পরিবার নিয়ে মানিকনগরের মিয়াজান গলির ৯৬ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকে। রুবির স্বামী একটি ফার্মাসিউটিক্যালসের বিক্রয় প্রতিনিধির চাকরি করতেন। গত ২৭ রমজান তিনি মারা যান। এরপর থেকে রুবি তার মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায় থাকে। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে রুবি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। গত রবিবার রাতে রুবি তার সন্তান রোজারকে একটি বাটিতে বিষ মেশানো আইসক্রিম খেতে দেয়। এতে রোজার অচেতন হয়ে পড়লে এরপর রুবি এক বোতল সিডিল ওষুধ খায়। এসময় প্রতিবেশী একজন এ ঘটনা দেখে ফেলে। পরে ওই বাড়ির অন্যরা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক রোজারকে মৃত ঘোষণা করেন। আর রুবির শরীর থেকে বিষ বের (ওয়াশ) করেন। বর্তমানে রুবি পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।
মুগদা থানার এসআই মো. ফজল মাহমুদ রবিবার রাতে শিশুর লাশ উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে যান। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহত শিশুর চাচা সোহেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত শিশুর চাচা সোহেল ইত্তেফাককে বলেন, তার ভাবী রুবির বাবার বাড়ি দক্ষিণ কমলাপুর সরদার গলিতে। ভাবীর বাবার নাম শাহজাহান। দক্ষিণ কমলাপুর সরদার গলিতে তাদের একটি নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িতে ভাবীর (রুবি) ভাই স্বপন বসবাস করেন। মন্জুর হাসান রাসেলের মৃত্যুর পর রুবি তার ভাই স্বপনের কাছে সম্পদের ভাগ চাইতে যায়। এ নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এতে রুবি আরো বেশি হতাশ হয়ে পড়ে। তারা ধারণা করছেন এসব হতাশা থেকে তার ভাবী শিশুসন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, কী কারণে ওই নারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত করছে, শিশুটিকে হত্যার কারণ খুঁজে দেখছে।
