দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুপেয় পানি সরবরাহে বিশেষ প্রকল্প

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৯, ২২:০৩

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট নিরসনে হাইজিন, স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার সাপ্লাই (হাইসাওয়া) নামের একটি সংস্থা ৮ হাজার ৭৫৬টি নলকূপ স্থাপন করেছে। খুলনা বিভাগের চারটি জেলার উপকূলীয় ও দুর্গম ১২টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়নে এ নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে পানির উত্স ও নলকূপের মাধ্যমে মোট ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪১ জন সুবিধা ভোগ করছেন। হাইসাওয়া ২০১০ সাল থেকে তিন ফেজে (মেয়াদে) নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে কাজ করছে। ২০২০ সালের নভেম্বরে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে উপকূলবর্তী এ অঞ্চলের মানুষ আরো উপকৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এই প্রকল্পের আওতায় থাকা উপজেলাগুলো হচ্ছে খুলনা জেলার ফুলতলা, তেরখাদা ও ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদর, কালীগঞ্জ ও আশাশুনি, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী, যশোর জেলার অভয়নগর ও কেশবপুর এবং নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার মোট ৭০ ইউনিয়ন। এসব এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের জন্য আধুনিক টয়লেটও তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।  সূত্রমতে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির চিত্র ভয়াবহ। বিশেষ করে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দীর্ঘদিনের। খাওয়া ও রান্নার কাজের জন্য বেশিরভাগ সময় তাদের পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রন থাকায় অনেক সময় কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এ অবস্থায় পানির এ সংকট দূর করতে ২০১০ সাল থেকে কাজ শুরু করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হাইসাওয়া। ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে হাইজিন, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিয়ে কাজ করা এ সংস্থাটি এসডিসির সহায়তায় ২০১৮-২০১৯ সালে খুলনা বিভাগের ৭০টি ইউনিয়নের ৬০০ গ্রামে ৮৩২টি পানির উত্স স্থাপন করতে সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং তৈরি করা হয়েছে ২২০টি। পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক রিভার্স অসমোসিস (আরও) স্থাপন করা হয়েছে। হাইসাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে গ্রামের বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন গ্রামবাসী নিজের বাড়ির ট্যাপ থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে পারছেন। এতে পানির কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার মানুষ। প্রতিটি নলকূপ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুই জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

জানা গেছে, সুইজারল্যান্ড সরকার ও দাতা সংস্থা এসডিসির আর্থিক সহায়তায় দ্বিতীয় ধাপে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উল্লিখিত উপজেলায় ৭ হাজার ৯৭৮টি নিরাপদ পানির উত্স স্থাপন করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও চাহিদা বিবেচনা করে ২০২০ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।

ডুমুরিয়ার মাগুরখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ সানা বলেন, ২০১৩ সালে হাইসাওয়ার সঙ্গে এ ইউনিয়নের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৮ সালে হাইসাওয়ার কাছে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারা পরিষদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১টি রিভার্স অসমোসিস (আরও) নির্মাণ করে। সেখান থেকে ৫০০ পরিবার মাত্র ৫০ পয়সায় প্রতি লিটার পানি সরবরাহ পাচ্ছেন। তবে ইউনিয়নবাসীর জন্য এ ধরনের ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ কারণে হাইসাওয়ার সহায়তা অব্যাহত থাকা খুবই জরুরি।

রংপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ জোদ্দার জানান, আগের দিনে আমাদের পানি আনতে নৌকায় করে বিল ডাকাতিয়া পার হতে হতো। দুই মেয়াদে ১৪৯টি গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার নিরাপদ পানির আওতায় এসেছে। এ প্রকল্প আমাদের মতো পিছিয়ে পড়া ইউনিয়নের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

প্রোগ্রাম অফিসার মাহবুব রশিদ বলেন, ২০০৭ সাল থেকে হাইসাওয়া বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তায় গ্রামীণ এলাকায় হাইজিন, স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ প্রকল্প পরিচালনা করছে। বর্তমানে চলমান প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের নভেম্বরে শেষ হবে। তবে এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে এ অঞ্চলের আরো ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।