বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পুলিশের গুলিতে ফয়সল আরিফ নিহতের প্রতিবাদ নিউইয়র্কে

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪:৩৬

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের বস্টনে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সৈয়দ ফয়সল আরিফ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। বাংলাদেশিদের নেতৃত্বাধীন নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএ ইন্ক স্থানীয় সময় রোববার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সর্বস্তরের প্রবাসীরা অংশ নেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা সৈয়দ ফয়সল আরিফ নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘পুলিশি হত্যাকাণ্ড’উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তারা প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এসময় তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান লেখা ফেস্টুন।

তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান লেখা ফেস্টুন

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএ ইন্ক-এর প্রেসিডেন্ট শাহ শহীদুল হক সাঈদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ, বাবু খান, মাহফুজুল হক হায়দার, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জয় প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সৈয়দ ফয়সল আরিফকে আত্নসমর্পন করানোর সুযোগ থাকলেও পুলিশ সেটা করেনি। তাকে হত্যার মাধ্যমে পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।’

সমাবেশে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও শ্রেণিপেশার মানুষেরা সংহতি প্রকাশ করতে সমাবেশে যোগ দেন।

এর আগে সৈয়দ ফয়সল আরিফ ‘হত্যা’র সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবিতে ৯ জানুয়ারি সোমবার  ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের বস্টনের ক্যামব্রিজ সিটি হলের সামনে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন কমিউনিটির শত শত মানুষ।

এছাড়া একই দিন দুপুরে ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে মানবন্ধনের আয়োজন করে সচেতন নাগরিক সমাজ। এর আগে নিউইয়র্কে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

উল্লেখ্য, নিজ বাসার জানালা দিয়ে লাফিয়ে খালি গায়ে ছুরি হাতে নিজেকে জখমের চেষ্টা করেন সৈয়দ ফয়সল আরিফ-এমন ফোন পেয়ে একদল পুলিশ অকুস্থলে হাজির হয় এবং তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালান বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি। পুলিশের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ফয়সল আরিফ পালানোর চেষ্টাও করেন বলে পুলিশ বলেছে।

ফয়সাল আরিফ

পুলিশ আরো উল্লেখ করে যে, একপর্যায়ে ফয়সল পেছনে ফিরে ছুরি উঁচিয়ে পুলিশের দিকে ধেয়ে আসছিলেন, সে সময়েই পুলিশ গুলি চালায় এবং ফয়সল গুরুতরভাবে আহত হন। রক্তাক্ত ফয়সল আরিফকে পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়ার পরই কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার বস্টনের রক্সবিউরি মসজিদে জানাজার পর স্থানীয় গোরস্থানে ফয়সল আরিফকে দাফন করা হয়।

মা-বাবার একমাত্র ছেলে আরিফ বছর সাতেক আগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০ বছর বয়সী এই তরুণ পড়ালেখা করছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের বস্টন ক্যাম্পাসে।

ইত্তেফাক/এসসি