তাড়াশে পটাশ সারের তীব্র সংকট

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:৪৬

তাড়াশ উপজেলার কৃষকরা পটাশ সারের তীব্র সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সাড়ে ৭০০ টাকা মূল্যের সার ১৩০০ থেকে ১৩৫০ টাকায় কিনেছেন। ১ বস্তা সার ১৭০০ টাকায় পর্যন্ত কিনেছেন। বোরো ধানের মৌসুমে পটাশ সার কেনার জন্য গুণতে হচ্ছে ১০৮০ থেকে ১১০০ টাকা।

সার বিক্রির ডিলারদের দাবি কৃষকের চাহিদার তুলনায় পটাশ সারের সরবরাহ খুব কম। বেশি দাম দিয়ে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এজন্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। 

কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, আমি বোরো আবাদের জমি প্রস্তুত করেছি। এরপর ৪ বস্তা পটাশ সারের জন্য তিনজন ডিলারের সারের ঘরে যাই। কিন্তু সার পাইনি। 

কৃষক আবু তালেব বলেন, আমার ১শ বিঘা জমি। ১৭শ টাকা করে পটাশ সার কিনে রোপা আমনের আবাদ করেছিলাম। এরপর ১১শ টাকা করে কিনে বোরো ধানের আবাদ করছি। 

পৌর এলাকার আসানবাড়ি গ্রামের কৃষক মাসুদ প্রামাণিক বলেন, আমি ১৩শ টাকা বস্তা পটাশ সার কিনে সরিষার আবাদ করেছি। ৪০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবো। ১ হাজার ৮০ টাকার কমে কোনো ডিলার সার দিচ্ছেনা।

বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারি গ্রামের কৃষক ঝন্টু সরকার বলেন, ৮০ বিঘা জমি চাষাবাদ করি আমি। সার সংকটের আতঙ্কে বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ১৩শ ৫০ টাকা বস্তা পটাশ কিনে রেখেছি।     

বিসিআইসির পরিবেশকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) তাড়াশ উপজেলার সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান বলেন, (১৫ জানুয়ারি) রবিবার বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ২শ ৮০ বস্তা পটাশ। আমার একার চাহিদা ছিল ৩ হাজার বস্তা। আমরা সার সংগ্রহ করে কৃষক পর্যায়ে না দিলে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। 

তিনি আরও বলেন, তাড়াশে ১২ জন  সার বিক্রির মূল ডিলার রয়েছে। এছাড়াও প্রতি ইউনিয়নে ৯ জন করে ৭২ জন সাব ডিলার রয়েছে। মূল ডিলার ও সাব ডিলারের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সার বিক্রি করা হয়।  

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশে নীট আবাদযোগ্য জমি রয়েছে ২৫ হাজার ১শ ১৫ হেক্টর। কৃষক রয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩শ ৫০ জন। 

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, সারের কোন সংকট নেই।

ইত্তেফাক/পিএস/এআই