বহুল আলোচিত ফেনীর নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়া আগামী ৩০ জুন এ মামলার চার্জ শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত।
জামিন আবেদনের ওপর দুপুর আড়াইটার দিকে শুনানি শুরু হয়। মোয়াজ্জেমকে বেলা ২.২২ মিনিটে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর কিছু সময় পর বিচারক মামলার শুনানি শুরু করেন। বাদামি রঙের টি-শার্ট ও কালো চশমা পরা মোয়াজ্জেমকে বেলা সোয়া ২টার পর আদালত কক্ষে নেওয়া হলে প্রথমে তাকে কাঠগড়ার বাইরে হেলান দিয়ে দাঁড়াতে দেখা যায়।
হাতকড়া ছিল না মোয়াজ্জেমের হাতে
থানা থেকে আনার পর কখনোই তার হাতে হাতকড়া দেখা যায়নি। সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন আইনজীবী এবং আদালতের পেশকার এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ আসামিকে কাঠগড়ার ভেতরে নেওয়া হয়। শুনানির সময় ওসি মোয়াজ্জেমকে আশেপাশে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রিজনভ্যানে করে শাহবাগ থানা আদালতে নেওয়া হয়। তবে প্রিজনভ্যানে তোলার সময় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে হাতকড়া পরানো হয়নি। সাড়ে ১২টার দিকে তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যান আদালতে পৌঁছে। এরপর তাকে মহানগর মুখ্য হাকিম (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা ২টার সময় ওসি মোয়াজ্জেমকে এজলাসে নেওয়া হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ শুনানিতে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম আইনের আশ্রয় গ্রহণ করার জন্যই উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মোয়াজ্জেমের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী সালমা সুলতানা। আর জামিন আবেদনের শুনানি করেন মো. ফারুক আহাম্মাদ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নজরুল ইসলাম শামীম।
মোয়াজ্জেম পুলিশ বাহিনীকে কলঙ্কিত করেছেন: মামলার বাদী
এ মামলার বাদী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েতুল হক সুমন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সুমন বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম যদি নির্দোষ হতেন, তাহলে তিনি পলাতক হতেন না। উনি দোষী তাই গ্রেফতার পরোয়ানা জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পলাতক হয়েছেন, যা পুলিশবাহিনীকে কলঙ্কিত করেছে। গতকাল আদালতে শুনানির সময় তিনি এসব কথা বলেন। শুনানি শেষে আদালত ভবনের নিচে মামলার বাদী সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ওসি মোয়াজ্জেমকে হাতে হাতকড়া দিয়ে আনা হয়নি। সে বিষয়ে পুলিশ ভালো জানেন কেন আনেননি।
