মিয়ানমারে ত্রাণ সহায়তা ফিরিয়ে নেবে জাতিসংঘ

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৯, ২৩:১৭

মিয়ানমারে দেওয়া ত্রাণ সহায়তা ফিরিয়ে নেবে জাতিসংঘ। এ বিষয়ে হুমকি দিয়ে মিয়ানমার সরকারকে একটি চিঠিও দিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অং সান সু চির সরকারের জাতিবিদ্বেষী নীতির কারণে জাতিসংঘ এই প্রথম কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। এমনকি মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রতিনিধিও পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের

মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী কেনাট ওস্টবির দেওয়া চিঠি হাতে পেয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে এখনো রোহিঙ্গারা শরণার্থী শিবিরে (ইন্টারন্যালি ডিসপ্লেসড পার্সনস বা আইডিপি ক্যাম্প) আছেন। তাদের মৌলিক অধিকার ও চলাফেরায় স্বাধীনতা নেই। গত ৬ জুন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী উইন মিয়াত আয়েকে দেওয়া চিঠিতে কেনাট ওস্টবি জানিয়েছেন, এখন থেকে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং চলাফেরার স্বাধীনতা না দিলে জীবন বাঁচাতে এবং নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যতোদিন না এগুলো কার্যকর হবে ততোদিন সহায়তা বন্ধ থাকবে। জাতিসংঘ এবং এর মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সোয়ে অং বলেন, এটাকে তারা সহায়তা বন্ধের হুমকি হিসেবে দেখছেন না। বরং জাতিসংঘ এবং এর সংস্থাগুলো ক্যাম্পে বাকি কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টায় সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছে। জাতিসংঘ এবং আমরা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা, ক্যাম্পে শান্তি স্থাপন, স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং উন্নয়নের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।

পদত্যাগ করবেন জাতিসংঘ প্রতিনিধি

গত সাত বছর ধরে জাতিসংঘ এবং এর সংস্থাগুলো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালেই মিয়ানমার সরকার রাখাইনে আইডিপি বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এসব ক্যাম্পে ১ লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিমরা বাস করেন। জাতিসংঘের এক অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা যাচ্ছে, শত চেষ্টা সত্ত্বেও ক্যাম্পে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের জীবনের কোনো উন্নতি হয়নি। তাদের নেই চলাফেরার স্বাধীনতা, পান না মৌলিক অধিকার। আগের মতোই তাদের পরাধীন জীবন এবং কোনোমতে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। দায়িত্ব নিয়েও উল্লেখ্যযোগ্য উন্নতিসাধণ করতে না পারায় পদত্যাগ করছেন আবাসিক সমন্বয়ক কেনাট ওস্টবি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করবেন। ফিলিপাইনে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ওলা আলমগ্রেন মিয়ানমারের দায়িত্বে আসবেন বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।