শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

থমথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, তুচ্ছ ঘটনায় রণক্ষেত্র

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ২১:০৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দিনব্যাপী থেমে থেমে দু’পক্ষের সংঘর্ষে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফের সংঘর্ষ এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। 

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বার পক্ষের ফের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক। এ সময় প্রায় ৪০টি দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

দুপক্ষের সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছবি: ইত্তেফাক
 
ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গায়ে সিএনজির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার এবং শনিবার আশুগঞ্জের দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল মিয়া এবং ইউপি সদস্য মিজান মিয়ার গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে দু‘দফায় সংঘর্ষ হয়।
 
এই ঘটনার জের ধরে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের গোষ্ঠীর লোকজন বুধবার সকালে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়। এর মধ্যে মিজান মেম্বারের গোষ্ঠীর একজনসহ ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।সংঘর্ষের সময় স্থানীয় বাজারের ১৩টি দোকানে অগ্নিসংযোগসহ আরও প্রায় ২৭টি বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবরে আমরা সেখানে গিয়েছি। মুদি, ফার্মেসিসহ বিভিন্ন প্রকার ১৩টি দোকান অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে। আমাদের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের দমকল বাহিনী অংশগ্রহণ করে।

তুচ্ছ ঘটনায় দুপক্ষের সংঘর্ষে আশুগঞ্জে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ। ছবি: ইত্তেফাক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) জয়নাল আবেদীন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আশুগঞ্জ থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের রেলগেইট থেকে স্কুলছাত্র রিমন সিএনজি করে দুর্গাপুর গ্রামে আসেন। এ সময় সিএসজি চালক  রুহুল আমিন ২০ টাকার স্থলে অতিরিক্ত ১০ টাকা বেশি ৩০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। এ সময় কথাকাটির একপর্যায়ে স্কুলছাত্র রিমনের গায়ে সিএনজি ধাক্কা লাগলে ঘটনা আরও বেড়ে যায়। রিমনকে মারধর করে সিএনজি চালক রুহুল আমিন। 

পরবর্তীতে স্কুলছাত্র রিমন বিষয়টি তাদের গোষ্ঠীর নেতা মিজান মেম্বারকে জানায়। মিজান মেম্বার বিষয়টি সিএনজি চালক রহুল আমিনের গোষ্ঠীর নেতা দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল মিয়াকে জানাতে তার বাড়িতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের লোকজন মিজান মিয়া মেম্বারের ওপর হামলা চালায়। 

তুচ্ছ ঘটনায় দুপক্ষের সংঘর্ষে দোকান ভাঙচুর। ছবি: ইত্তেফাক

এই খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে মিজান মেম্বারের গোষ্ঠী ও চেয়ারম্যানের গোষ্ঠীর লোকজন সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। 

এ ঘটনার জের ধরে আবারও পরদিন শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই গোষ্ঠীর লোকজন দফায় দফায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। দুপুর একটা পর্যন্ত চলা সংর্ঘষে আহত হয় আরও ৩০ জন। এই সময় সংর্ঘষটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষের সঙ্গে গ্রামের অন্য গোষ্ঠীগুলো বিভক্ত হয়ে সংর্ঘষে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দু‘পক্ষের সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। মিজান মেম্বারের পক্ষে মোল্লাবাড়ি, হাজী ইউসূফ পাড়া ও শরিয়ত উল্লাহ পাড়া এবং চেয়ারম্যানের গোষ্ঠীর পক্ষে নজরবাড়ি, মুন্সিবাড়ি, বামুমুন্সির বাড়ি ও নূরারপাড় বাড়ি লোকজন অংশগ্রহণ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে সংর্ঘষ নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাসেল মিয়া ও ইউপি সদস্য মিজান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ইত্তেফাক/পিও