মাত্র একদিনের অভিযানেই বদলে গেছে গোটা নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতের দৃশ্য। নেই কোন হকার, নেই গাড়ি পার্কিং, নেই দোকানদারের মালামালও। একজনের সঙ্গে অন্য জনের গায়ে গাঁ লাগছে না। মুক্ত ফুটপাতে স্বস্তিতে হেঁটে বেঁড়াচ্ছেন সাধারণ পথচারীরা। আর এতে নগরবাসী অভিনন্দন জানিয়েছে এসপি হারুন অর রশিদকে। তবে একদিনের এ অভিযানেই সফল হলেও কতদিন এমনটা ধরে রাখতে পারবেন সেই প্রশ্ন উঠছে নগরবাসীর মধ্যে। কেন না ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে এমনই অভিযান চালিয়ে ছিলেন তত্কালীন পুলিশ সুপার মঈনুল হক। কিন্তু টানা দুই সপ্তাহ টিকে থাকলেও ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি সংঘর্ষের পর আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে নগরী। তবে বর্তমান এসপি হারুন অর রশিদ ঘোষণা দিয়েছেন ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সাধারণ মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ নগর উপহার দিতে চান।
তবে পুলিশ সুপারের ঘোষণার পরও শহরে চলছে অবৈধ পার্কিং ও বসছে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। গতকাল সোমবারও শহরের মন্ডলপাড়া মোড়ে ও শহরের চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটের সামনে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড বসতে দেখা যায়। এ ছাড়াও শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় মিড টাউন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে দেখা গেছে প্রায় অর্ধেক সড়ক দখল করে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করতে। শহরের মন্ডলপাড়া মোড়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই অবৈধভাবে ৩০টির মত সিএনজি পার্কিং করে স্ট্যান্ড করা হয়েছে। এখান থেকে যাত্রী নিয়ে তারা আবার বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। এখানে দেখা যায় সিএনজির জন্য পার্কিং ফি ও আদায় করছে মালিক সমিতির নামে দুজন ব্যক্তি। অথচ অবৈধ পার্কিং ও স্ট্যান্ড বসিয়ে যানজট বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে এসপি নিজে ১৫ জুন শহরে পায়ে হেটে এসব উচ্ছেদ করেছেন। এদিকে শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় মিড টাউন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে দেখা যায় প্রায় অর্ধেক সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিং করে আছে বিভিন্ন প্রাইভেট গাড়ির চালকরা। সিএনজি স্ট্যান্ড ও এই পার্কিংয়ের সামনে পুলিশের একাধিক পেট্রোল টিমকে টহল দিতে দেখা গেছে।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমান জানান, আমরা নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছি। একদিনে তো আর সকল সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তবে আমরা চেষ্টার কমতি করছিনা। আশা করি দ্রুতই সকল সমস্যার সমাধান হবে। এরআগে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে নগরীর ফুটপাত দখল মুক্ত করতে অভিযান শুরু করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। শহরের চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে শুরু করে দুই ভাগে দুই শতাধিক পুলিশ এক সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিমের ফুটপাতে অভিযান শুরু করে। যেসব হকাররা তাদের চেয়ার টেবিল আগের দিনের বিক্রি শেষে টেলিফোন কিংবা বিদ্যুতের খুটির সঙ্গে তালা দিয়ে বেঁধে গিয়েছেন তাদের সেইসব আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে। আবার কিছু আসবাবপত্র তুলে নেয়া হয়েছে গাড়িতে জব্দ মালামাল হিসেবে। আবার যাদের দোকান খোলা ছিল এবং তাদের মালামাল ফুটপাতে রাখার কারণে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সরিয়ে নিতে আল্টিমেটামও দেওয়া হয়েছে।
