শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীসংকট 

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:৪৫

করোনা মহামারির পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর যাত্রী আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় লোকসানের কবলে পড়েছেন লঞ্চ মালিকরা। যাত্রীসংকটের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান এড়াতে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে তিনটি করে লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত না মানায় লোকসানের বোঝা ভারি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অধিকাংশ লঞ্চ মালিক জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তিন মাস পর রোটেশন করে প্রতিদিন তিনটি করে লঞ্চ পরিচালনা করে অন্তত এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত ১৫ দিনও স্থায়ী হয়নি।  লঞ্চ মালিক সমিতির পরিচালক ও এমভি কীর্তনখোলা লঞ্চের সত্ত্বাধিকারী মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস ইত্তেফাককে জানান, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি নাজুক হবে। ব্যাংকের ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সময় লঞ্চ স্ক্রাব করে বিক্রি করে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

একাধিক লঞ্চ মালিক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রী সংকটের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে রোটেশন প্রথা চালু করা হয়েছিল। তারা জানান, ডেকে বর্তমানে ২০০ টাকায়ও যাত্রী মিলছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লঞ্চ মালিক জানান, সুযোগ বুঝে যাত্রীরা লঞ্চে এসে ২ হাজার ৪০০ টাকার ডাবল কেবিন ১ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৪০০ টাকার সিঙ্গেল কেবিন ৬০০ টাকায় দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছেন। অথচ যাত্রী কমে যাওয়ায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে প্রতি ট্রিপে। জামাল নামে কলম্যান জানায়, আগে আমার লঞ্চ প্রতিদিন আসত তাতে মাসে ১৫ দিন বরিশাল দিয়ে ঢাকা যাতায়াত করায় প্রতিদিন ২০০ টাকা করে পেতাম। আর এখন লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপর লঞ্চে কাজে যোগদান করলেও যাত্রী না ওঠায় ৫০ টাকাও দিচ্ছে না। টাকা বাড়ানোর কথা মালিকপক্ষকে জানালে তারা সরাসরি বলে আমাদের কলম্যান লাগবে না। আমরা যদি এ কাজ ছেড়ে দি তাহলে তো পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। একাধিক লঞ্চের কেবিন বয় ও স্টাফরা জানান, তারা সামান্য বেতনে এ চাকরি করেন। কারণ যাত্রীরা তাদের কিছু বখশিশ দেন। সব মিলিয়ে তাদের চলে যায়। কিন্তু বর্তমানে মাসে যে কয়দিন শিডিউল থাকে তাতে পরিবারপরিজন নিয়ে ডাল-ভাত খাওয়া সম্ভব নয়। তাই তারা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার চিন্তা করছেন।

এ রুটে যাতায়াতকারী নিয়মিত যাত্রীরা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল নগরীর পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলা থেকে যারা নিয়মিত লঞ্চে যাতায়াত করতেন তারা বেশির ভাগ সময়ই বর্তমানে বাসে যাতায়াত করছেন। ছেলেমেয়ে নিয়ে অ্যাডভেঞ্চার-১ লঞ্চে যাত্রা করা যাত্রী সুমাইয়া বেগম জানান, ডেকে যাত্রী হয়ে কোনো যাত্রী না দেখে তার অস্বস্তি লেগেছে। কেননা এত বড় লঞ্চে কম যাত্রী থাকায় নিরাপত্তাজনিত ভয় পাচ্ছেন তিনি। তার মতে যে ভাবে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে তাতে লঞ্চই ভালো। তবে অপর যাত্রী তন্ময় তপু জানান, পদ্মা সেতু চালুর ফলে যাত্রী কিছুটা কম হওয়ার সুবাদে অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে লঞ্চে ঢাকা যেতে পারছেন তারা। কেবিনের যাত্রীরা বলেন, একটি কেবিন পেতে নানান মহলে তদ্বির করতে হতো। বর্তমানে টার্মিনালে গিয়ে যে লঞ্চ পছন্দ সে লঞ্চেই কেবিনের টিকেট পাওয়ায় ভোগান্তি কমেছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ