বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যশোরে হত্যার সাত বছর পর নিহতের পরিচয় ও ঘাতকরা শনাক্ত

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:০২

মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে কঙ্কালভর্তি ড্রাম। সেই কঙ্কালের সূত্র ধরে সাত মাস পর শনাক্ত হলো হত্যার শিকার হতভাগ্য যুবকের পরিচয়। জানা গেছে, ২০১৬ সালে ঐ যুবককে হত্যার পর লাশ ড্রামে ভরে ফেলে দেওয়া হয় পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে। এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই যশোর। লাশ গুমে জড়িত তিন আসামিকে আটকও করা হয়েছে। চিহ্নিত হয়েছে প্রধান আসামিও।

হত্যার শিকার রাজীব হোসেন কাজী (৩২) খুলনার দীঘলিয়া উপজেলার চন্দোলিমহল গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। আটক তিন জন হলেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মঙ্গলহাটা গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে ও যশোরের কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার আবদার ড্রাইভারের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ সালাম (৫৫), পুরাতন কসবা এলাকার ইব্রাহিম (৩২) ও জয়নাল হাওলাদার (৩০)।  প্রধান অভিযুক্ত পুরাতন কসবা আবু তালেব সড়কের শেখ আজিজুল হকের ছেলে শেখ সজিবুর রহমান (৩৪) অন্য একটি মামলায় কারাগারে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত বছর ৩০ মে যশোর শহরের পুরাতন কসবা নিরিবিলিপাড়ার বজলুর রহমানের জায়গায় পরিত্যক্ত টয়লেটের রিং-স্লাবের কুয়ার ভেতর একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে মানুষের হাড়গোড় ও মাথার খুলি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পিবিআই যশোর জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে তারা ২০১৬ সালে পুরাতন কসবা থেকে নিখোঁজ রাজীব হোসেন কাজী নামে এক যুবকের সন্ধান পান। রাজীব যশোরে তার চাচা হাসমতের বাসায় থেকে পুরাতন কসবা আবু তালেব সড়কের শেখ আজিজুল হকের ছেলে শেখ সজিবুর রহমানের বাসা ও অফিসে কাজ করতেন।  

২০১৬ সালের ২৯ মার্চ রাতে রাজীব তার পিতাকে ফোন করে তাদের খুলনার বাড়িতে আসছে বলে জানায়। কিন্তু রাজীব খুলনায়  ফেরেনি। তার পিতা রাজীবের মোবাইল ফোনে কল করে মোবাইল ফোন বন্ধ পান। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার। গত বছর ৩০ মে রাতে হাসমত রাজীবের পিতা ফারুক হোসেনকে ফোন করে জানান, রাজীব যেখানে কাজ করত সেখানে টয়লেটের রিং-স্লাবের  ভেতরে কঙ্কালভর্তি ড্রাম পাওয়া গেছে। পরে ফারুক হোসেন পিবিআই যশোর অফিসে এসে পুলিশ সুপারকে তার ছেলেকে শনাক্তকরণের জন্য অনুরোধ করেন। এ ব্যাপারে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর একটি জিডি করা হয়। জিডির সূত্র ধরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই যশোরের এসআই জিয়াউর রহমান আদালতের নির্দেশে কঙ্কাল এবং ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী মাবিয়া বেগমের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠান। কঙ্কাল বাদীর ছেলের তা ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়। এরপর ফারুক হোসেন গত মঙ্গলবার যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

হত্যায় জড়িত সন্দেহে সোমবার রাতেই মোহাম্মদ সালামকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সালাম স্বীকার করেছে, অন্য অসামিরা ভিকটিম রাজীবকে হত্যা করে তার সহযোগিতায় লাশ গোপন করার জন্য ড্রামে ভরে টয়লেটের কুয়ার মধ্যে ফেলে দেয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেন। এরপর মঙ্গলবার রাতে দুই আসামি ইব্রাহিম ও জয়নাল হাওলাদারকে গ্রেফতার করে পিবিআই। বুধবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পিবিআই পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সজিবুর রহমান অন্য একটি মামলায় কারাগারে আটক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে হত্যার মোটিভ উন্মোচিত হবে।

ইত্তেফাক/ইআ