অনন্য উচ্চতায় সাকিব

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ০০:৫৪

১৪তম ওভারের পঞ্চম বলটা থার্ড ম্যানের দিকে গাইড করে দিয়েই সংগ্রহে আরো দুটো রান যোগ করলেন সাকিব আল হাসান। সঙ্গে সঙ্গে পায়ে এসে লুটিয়ে পড়ল আরেকটা অর্জন। তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

তবে সাকিবের এই দিনটা কেবল মাইলফলক স্পর্শ করার ছিল না। খেললেন ১২৪ রানের অতিমানবীয়, অপরাজিত এক ইনিংস। আর তাতে বাংলাদেশকে অসামান্য এক জয় এনে দিয়ে তবে মাঠ ছাড়লেন।

সাকিবের এই কীর্তি এখানেই শেষ নয়। উইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ জয় পাওয়ার দিনে ক্রিকেট ইতিহাসের চতুর্থ অলরাউন্ডার হিসেবে ৬০০০ রান আর ২৫০ উইকেটের ডাবল অর্জন করেন তিনি। এর আগে শহিদ আফ্রিদি, সনাথ জয়াসুরিয়া ও জ্যাক ক্যালিস এমন কীর্তি গড়তে সক্ষম হয়েছিলেন। মাত্র ২০২ ম্যাচে এই কীর্তি গড়ে আফ্রিদিকে হটিয়ে ৬০০০ রান আর ২৫০ উইকেটের ডাবল ছোঁয়া দ্রুততম খেলোয়াড়ও বনে যান তিনি। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে ২৯৪ ম্যাচ লেগেছিল পাকিস্তানি অলরাউন্ডারের।

চলতি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে সাকিব করেছেন যথাক্রমে ৭৫, ৬৪, ১২১ ও অপরাজিত ১২৪। ফলে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চকে (৩৪৩ রান) সরিয়ে গতকাল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের জায়গাটিও ফিরে পান তিনি। গতকাল পঞ্চাশ ছুঁয়েই বিশ্বকাপে টানা চারটি অর্ধশতকের সংক্ষিপ্ত এক তালিকায় চলে আসেন সাকিব। এর আগে কেবল নভোজ্যোত সিধু, শচীন টেন্ডুলকার ও গ্রায়েম স্মিথের এমন কীর্তি ছিল।

ম্যাচ শেষে সাকিব অবশ্য একা কৃতিত্ব নিতে চাইলেন না। বললেন, এই জয় দলীয় প্রচেষ্টার ফসল, ‘শেষ পর্যন্ত থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারাটা দারুণ ব্যাপার। গত এক দেড় মাস ধরে আমি ব্যাটিং নিয়ে কষ্ট করছি। তার ফল আসতে শুরু করেছে। তবে এটা দলীয় প্রচেষ্টায় ফল। আমাদের বিশ্বাস ছিল, আমরা জিততে পারি। বোলাররা ভালো করেছে। পরে লিটন ও আমি শেষ করে এসেছি।’