যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় দেশের সঙ্গে করা আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি মানবে না ইরান। স্বল্পমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। গতকাল সোমবার দেশটির আনবিক সংস্থার মুখপাত্র বেহেরজি কামালবন্দি এই ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ইরান আগের নির্ধারিত মাত্রায় ফিরে যাওয়ার কথা বিবেচনা করবে যদি ওই আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অন্যান্য স্বাক্ষরকারী দেশ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করে। তেহরান গত মাসেই ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির কিছু অঙ্গীকার থেকে সরে আসার হুমকি দিয়েছিল। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের
সংবাদ সম্মেলনে বেহেরজি কামালবন্দি জানিয়েছেন, ২৭ জুনের মধ্যেই স্বল্পমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়াতে যাচ্ছেন তারা। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে বেঁধে দেওয়া ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা ছাড়াবে। তিনি বলেন, আমরা অতি সম্প্রতি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চারগুণ বাড়িয়েছি যাতে ১০ দিনের মধ্যে ইউরেনিয়ামের মজুদ বেঁধে দেওয়া ৩শ’ কেজি সীমা অতিক্রম করে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে পরমাণু চুক্তি লংঘনের অধিকার ইরানের আছে। ২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। কিন্তু চুক্তিতে স্বাক্ষর করা ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো চুক্তিটি সমর্থন করছে। ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে সুরক্ষা চাইছে।
বেহেরজি কামালবন্দি বলেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩ দশমিক ৭০ ভাগ পর্যন্ত বাড়াবে। চুক্তি অনুযায়ী ৩ দশমিক ৬৭ ভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা। এই মাত্রা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু পরমাণু বোমা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত নয়। চুক্তির আগে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ ভাগে পৌঁছেছিল। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম ৯০ ভাগ সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান ইউরোপকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল মনে করা হচ্ছে। ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য চুক্তিতে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা করে ইরান ইউরোপকে নিজস্ব চ্যানেলে তাদের সঙ্গে বাণিজ্য করার কথা বলছে। কিন্তু ইউরোপ সেই সিদ্ধান্ত গতকাল পর্যন্ত জানায়নি। আর এতে ইরানের যে ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে সেটাই জানানো হলো ইউরোপীয় দেশগুলোকে।
