বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পিছিয়ে পড়েও টটেনহ্যামকে হারালো ম্যানসিটি 

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:৪৭

স্বরূপে ফিরেই টটেনহ্যামকে বিধ্বস্ত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও সফরকারী স্পার্সদের বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়লাভ করেছে কোচ পেপ গার্দিওলার ম্যানসিটি। 

ইত্তেহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ তিন মিনিটে দিয়ান কুলুসেভস্কি ও এমারসন রয়্যালের গোলে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়লে শিরোপা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা হুমকিতে পড়ে যায় ম্যানসিটির।  কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে আগ্রাসী মেজাজে খেলা শুরু করে সিটিজেনরা। ওই অর্ধের শুরুতেই মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে পরপর তিন গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন যথাক্রমে হুলিয়ান আলভারেজ, আর্লিং হালান্ড ও রিয়াদ মাহরেজ। ম্যাচের শেষ মিনিটে মাহরেজ আরও একটি গোল করলে বড় জয় নিয়ে সাজঘরে ফিরে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। এই জয়ে টেবিল টপার আর্সেনালের চেয়ে মাত্র ৫ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে সিটি। যদিও গানারদের হাতে আছে বাড়তি একটি ম্যাচ।

এদিকে লিগে সর্বশেষ চার ম্যাচের মধ্যে তিন পরাজয়ে শীর্ষ চারের চেয়ে এখনো ৫ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার্স। গত শনিবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে বিতর্কিত ম্যাচে ২-১ গোলে পরাজিত হওয়া দলটিতে পাঁচ পরিবর্তন নিয়ে কাল একাদশ সাজিয়ে শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন গার্দিওলা। বাদ পড়াদের মধ্যে কেভিন ডি ব্রুইনা ও বার্নার্ডো সিলভার মতো শীর্ষ তারকারাও ছিলেন। পরিবর্তিত একাদশে হালান্ডের সঙ্গে জুটি বাঁধেন আলভারেজ। 

এদিকে ধীরগতির সূচনা এই মৌসুমে যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে স্পার্সদের। তবে গতকাল এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড নিয়ে নেয় টটেনহ্যাম। অপরদিকে আসল চেহারায় ফিরতে সিটিকে ব্যয় করতে হয়েছে পুরো ৪৫ মিনিট। প্রথমার্ধে টটেনহ্যামের এগিয়ে যাবার নেপথ্যেও ছিল সিটিজেনদের বেশ কয়েকটি ভুল। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে সিটির ব্রাজিলীয় গোল রক্ষক এডারসন সতীর্থ স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রড্রির কাছে পাস দিলে যথাসময়ে সেটি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন তিনি। 

আর এই সুযোগে বল দখলে নিয়ে স্বাগতিকদের জালে জড়িয়ে দেন স্পার্স তারকা কুলুসেভস্কি (০-১)। মৌসুমের প্রথম দিন থেকে এ পর্যন্ত এটিই ছিল তার প্রথম গোল। পর মুহূর্তে আরো একটি গোল পায় টটেনহ্যাম। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে (৪৫+২) ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেনের একটি শটের বল ফিরিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক এডারসন। তবে ফিরতি বলটি বেশ সহজেই দর্শনীয় হেডে জালে জড়িয়ে দেন এমারসন (০-২)।

বিরতির পরও দলে কোন পরিবর্তন আনেননি গার্দিওলা। আস্থার মর্যাদা দিতে ভুল করেনি শিষ্যরা। মাত্র ১৮ মিনিটের মধ্যেই তারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। লড়াইটা প্রথমে শুরু করেন আর্জেন্টাইন তারকা আলভারেজ। ৫১ মিনিটে গোলমুখে জটলার মধ্যে বেশ ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করেন তিনি (১-২)। দুই মিনিটের মধ্যেই ম্যাচটি সমতায় চলে আসে। ৫৩ মিনিটে মাহরেজের ক্রসের বল দারুণ হেডে জালে জড়িয়ে দিয়ে তিন ম্যাচের গোলখরা দূর করেন হালান্ড (২-২)। এর দুই মিনিট পর সিটিকে এগিয়ে দেন মাহরেজ। ডিফ্লেক্টেড গোলে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের ৯০ মিনিটে মাহরেজ আরও একটি গোল করলে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ইত্তেফাক/জেডএইচ