বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাতীয় দলে ফেরার আশা ছেড়ে দিয়েছেন আশরাফুল

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৫৬

ক্রিকেটে সুপারস্টার বলতে যেটা বুঝায় বাংলাদেশের তিনিই প্রথম। মাঠে নামলে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন তাকে দেখে মনে হতো ব্যাটিং যেন কত সহজ। মুত্তিয়া মুরালিধরন, শেন ওয়ার্ন থেকে শুরু করে গ্লেন ম্যাকগ্রা কিংবা স্টিভ হার্মিসন; এমন কোনো বোলার  নেই যাকে বেধড়ক পেটাননি তিনি। গড়েছিলেন সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ডও। নিশ্চয় বুঝে গেছেন, যার কথা বলছি তিনি আর কেউ নন; মোহাম্মদ আশরাফুল। এক সময়ে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের একমাত্র আশার ফুল ছিলেন তিনিই।

ভারতের বিদ্রোহী ঘরোয়া লিগ আইসিএলের লোভনীয় প্রস্তাব পায়ে ঠেলেছেন দেশের কথা ভেবে, যেখানে হাবিবুল বাশার সুমনসহ খেলেছেন অলোক কাপালিদের মতো বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। তবে ট্যালেন্ট অনুযায়ী ধারাবাহিক না থাকায় হতাশও হতে হয়েছে ভক্তদের। বেশির ভাগ সময়েই আউট হয়েছেন খামখেয়ালি শট খেলে। সবকিছু ছাপিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ গড়াপেটায় জড়িত থাকায় হয়েছেন নিন্দিত। যদিও পরে দোষ স্বীকার করে মাফ চেয়ে গড়েছেন অনন্য নজির। সে অপরাধে শেষ পর্যন্ত হয়েছিলেন দীর্ঘদিনের জন্য ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত। কিন্তু তারপর ফিরে এসে নিজেকে ফিট করে খেলেছেন এনসিএলসহ নানা ঘরোয়া লিগ। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এখন পর্যন্ত আর প্রয়োজন মনে করেননি নির্বাচকরা। যদিও বারবার জাতীয় দলে ফেরার আত্মপ্রত্যয় ঝরেছে আশরাফুলের কণ্ঠে। কিন্তু প্রতিবারই হতাশ হতে হয়েছে নির্বাচকদের অনীহায়। এতদিনে জাতীয় দলে ঢোকার সে আশাও ছেড়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

গতকাল ঢাকার সিটি ক্লাব মাঠে স্থানীয় একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক। সেখানে তার জাতীয় দলে ফিরে আসার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আশরাফুল বলেন, ‘না, এখন আর আশা করি না, এখন জাস্ট খেলতে (ঘরোয়া) চাই।  হয়তো আর একটা দুইটা সিজন খেলব। তবে ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে চাই। অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।’

কোচ হাথুরুসিংহকে নিয়েও কথা বলেন আশরাফুল। বিপিএল বা এনসিএলের বাইরে যেসব ক্রিকেটার থাকে তাদের নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেশি। ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটার আছে ১২০ থেকে ১৪০ জন। লিস্টে ক্রিকেটার ২১০ জনের মতো। আমরা ৫০-৬০ জন ক্রিকেটারের জন্য সবকিছু আয়োজন করে থাকি। বাকি ক্রিকেটারদের নিয়ে যদি চিন্তা না করি তাহলে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হতে চাওয়া কঠিন হবে।

এনসিএলের পর চার মাস অনেক ক্রিকেটার বসে থাকে। তাদের অন্য কোথাও খেলাতে হবে। এনগেজ করতে হবে। আরো চারটা টিম করে রাজশাহী বা বগুড়ায় খেলানো যায়। অনেক কোচও এখন কাজ করছেন না।’

আশরাফুল এসময় হাথুরুসিংহকে নিয়ে বলেন ‘সে কোচ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে। সিনিয়রদের জন্যও এটা ভালো। সে কোচ থাকার সময়েই সিনিয়ররা ভালো করেছে। হাথুরুসিংহ আসলে দল পারফরম্যান্স আরো বেশি করবে।’

ইত্তেফাক/এসএস

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন