বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা অধিকতর তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:৩৪

প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (এসিএমএম) এই আদেশ দেন।

রোজিনা ইসলামের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী আজ আদালতে হাজির হয়ে বলেন, তার করা মামলায় যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, এর বিরুদ্ধে তিনি নারাজি দেবেন। আদালত তখন বাদীর কাছে জানতে চান, তিনি কেন নারাজি দেবেন? 

শিব্বির আহমেদ আদালতকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তিনি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। কিন্তু যথাযথ তদন্ত না করে মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেন, নারাজি দেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হয়। 

মামলার বাদী বলেন, এ বিষয়ে তার আইনজীবী কথা বলবেন। 

তখন রোজিনা ইসলামের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার বলেন, তার মক্কেলের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী অসুস্থ। তিনি আজ আদালতে আসতে পারেননি। এ জন্য নারাজি আবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন তারিখ ধার্যের আরজি জানান তিনি।

প্রশান্ত কর্মকারের এই আরজির বিষয়ে আপত্তি জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী বদরুল ইসলাম। তিনি আদালতে বলেন, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নারাজি দেওয়া হলে এর ওপর শুনানিতে আসামিপক্ষের বক্তব্য রাখার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয়। একই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২৩মে জামিনে মুক্ত পান রোজিনা ইসলাম। এর পর থেকে তিনি আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছেন।

তবে রোজিনা ওই সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। আর তার সহকর্মীরা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ নিয়ে প্রতিবেদন করায় তাকে ‘হয়রানি’ করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএএম