বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দেশীয় ডিজাইনে বিশ্ব জয় 

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:৩৯

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইশো তার মিলিমালিস্টিক এবং টেকসই ডিজাইনের মাধ্যমে আসবাব শিল্পে সাফল্যের গল্প লিখছে। 'গ্লোবাল অ্যাম্বিশনস, লোকালি মেইড' নীতিটি সঙ্গে নিয়ে পথ চলছে ইশো। বিশ্বব্যাপী অনুপ্রাণিত ডিজাইন আধুনিক বাড়ি, অফিস এবং বাণিজ্যিক স্পেসগুলির জন্য তৈরি পণ্যগুলির স্থানীয় উৎপাদনের মধ্যে কোম্পানিটির শক্তি নিহিত।

ইশো-এর ফার্নিচারগুলো সম্পূর্ণরূপে যান্ত্রিক এন্ড-টু-এন্ড প্রক্রিয়া দিয়ে তৈরি। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে স্থানীয়ভাবে পূর্ণ-পরিণত শক্ত কাঠের সোর্সিং, পণ্যের প্রতিটি উপাদান তৈরি করে একটি সম্পূর্ণ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত পণ্য তৈরি করা। এই প্রস্তুতকৃত পণ্যগুলো মাত্র ৭ দিনের মধ্যে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। শিল্পে তার ডিজাইনের দর্শন দিয়ে বিপ্লব এনেছে ইশো। একইসঙ্গে, পরিবর্তন এনেছে মানুষের আসবাব কেনাকাটার অভ্যাসেও।

ব্র্যান্ডটি সম্প্রতি তিনটি ওভিসি প্রচার করেছে যা এর রাতারগুল, সোনারগাঁও এবং ইকাত কালেকশনগুলোকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। এই প্রতিটি কালেকশনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ শেকড়কে তুলে আনা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে সংক্ষিপ্তভাবে ডিজাইনের উৎপত্তির বিষয়টি দেখানো হয়েছে। ইশো’র ফ্যাক্টরিতে কীভাবে চমৎকার, আধুনিক এবং রেডি-মেড আসবাব তৈরির ধারণাগুলিকে বাস্তবায়ন করা হয় সেটিও উঠে এসেছে এই ভিডিওগুলোতে। এ ছাড়া কারুশিল্পসহ দেশের মূল্যবান ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে করা ডিজাইন প্রক্রিয়াও ভিডিওগুলোর আলোচ্য বিষয়।

বিশ্বের নানা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত এই সিরিজটির নামকরণ ও ডিজাইনের উপাদানগুলোতে দেশীয় সংস্কৃতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এতে ব্র্যান্ডটির সৃজনশীলতা ফুটে উঠেছে। 

কোম্পানিটি প্রাথমিকভাবে ২২টি কালেকশনে ৩৮০টি পণ্য নিয়ে অনলাইন কার্যক্রম চালু করেছিলো। এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে ৪৫টি ক্যাটাগরিতে ৪৫০০ টিরও বেশি পণ্য আছে৷ নান্দনিকতা এবং কার্যকারিতা উভয় ক্ষেত্রেই পণ্যগুলি চমৎকার। ইশো-এর আসবাব ও গৃহসজ্জার উপকরণগুলোর ডিজাইন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের সংস্কৃতি দ্বারা অনুপ্রাণিত, যার মাধ্যমে ভোক্তারা এসব জায়গায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কোম্পানিটি অফিস স্পেসের জন্য অভ্যন্তরীণ সমাধানও প্রদান করে। এ ছাড়া, ব্র্যান্ডের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কেনাকাটা করার সময় গ্রাহকদের এআর অভিজ্ঞতা প্রদান করছে, যা আসবাব শিল্পে ইশো-ই প্রথম চালু করেছে। 

কোভিডের বিপজ্জনক সময়ে, ব্র্যান্ডটি যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সারা দেশের প্রায় ৪৮টি শহরে তাদের পণ্য হোম ডেলিভারি দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি মানুষের আস্থার সাথে সাথে আসবাব শিল্পে একটি শক্তিশালী স্থান অর্জন করেছে। ইশো-এর যাত্রা শুরু করার সময় কোম্পানিটির মিলিমালিস্টিক এবং টেকসই ডিজাইনের নীতি সব ধরনের গ্রাহকদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিল। হার্ডউড ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের উপকরণ নিয়ে ইশো’র পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে টেকসই নকশা তৈরি হয়েছে, যা মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে। ইশো প্রতিষ্ঠার ৩ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে হাতিল, আখতার, এবং অটবি-এর সাথে প্রতিযোগিতা করে বাজারে শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব এখনও কোভিডের প্রভাব থেকে সেরে উঠছে। মহামারীর কারণে কাঁচামাল এবং আসবাবপত্র সরবরাহ আমদানির বর্ধিত ব্যয় বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে প্রভাব ফেলছে। এই সময়ে বাড়ি, অফিস স্পেস এবং ঘর সাজানোর জন্য সেরা মানের আসবাবপত্র সরবরাহ করে ইশো ভোক্তাদের বৈশ্বিক জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা প্রদান করছে।

তিনটি মুল শব্দ সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি এবং সমসাময়িকতা- এর মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখে আধুনিক পণ্য ডিজাইনের মাধ্যমে আধুনিক বাংলাদেশী গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে মিল রেখে পণ্য তৈরি করছে ইশো। এছাড়া ডিজাইনগুলি গ্রাহকদের দেশের সংস্কৃতিকে মনে করিয়ে দেয় এবং টেকসই জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এইসকল পণ্যগুলি ইশো’র আউটলেটগুলিতে পাওয়া যাবে বা ঝামেলামুক্ত শপিং ও দ্রুত ডেলিভারির সুবিধা নিতে ঘরে বসেই www.isho.com থেকে অনলাইনেও কেনাকাটা করা যাবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি