শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অব্যক্ত প্রেমের ‘অপূর্ণ গোধূলি’

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:৫৬

প্রেম ভোলায়, প্রেম কাছে টানে কিংবা দূরে সরে যায়। প্রেম বাড়ে কিংবা কমে, কিন্তু তা নিঃশেষ হয়ে যায় না কখনোই। হৃদয়ের কোঠরে জমে থাকা এমনই অব্যক্ত প্রেমের কথা যখন কবির কলমের কালিতে সাদা পৃষ্ঠায় ছবি হয়ে ওঠে, তখনই সৃষ্টি হয় কবিতার। এমনই ১০০ টি প্রেমের কবিতার বই ‘অপূর্ণ গোধূলি’।

কবি ও গল্পকার তসলিমা হাসানের অপূর্ণ গোধূলী কাব্যগ্রন্ত একটি প্রেমের কবিতার সংকলন। ১১২ পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ করেছে প্রতিবিম্ব প্রকাশ। বইটির প্রচ্ছদ করেছে ধ্রুব এষ। বইটি অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২৩ এ পাওয়া যাবে। ‘নিঃশব্দে নিশীথে’ ও ‘আঁধার কন্যা’ ছোট গল্পের বই দুটিতে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তসলিমা হাসান। তার গল্পে নতুনভাবে ধরা পড়ে বাংলার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিল্প সংস্কৃতি ও প্রাণ-প্রকৃতি। গল্পের বই দুটি যখন পাঠক মনে লেখকের জায়গা তৈরি করছে, ঠিক তখনই প্রকাশ হয় তার প্রথম কবিতার বই ‘কেউ কেউ কেবল কাঙাল হয়’। বইটি দেশি-বিদেশি পাঠকের কাছে দারুণভাবে সমাদৃত হয়। বিশেষ করে লেখকে বাসস্থান কানাডার অনেক পাঠক গুণমুগ্ধ প্রশংসায় ভাসান তার প্রথম কবিতার বইটিকে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হলো কবির দ্বিতীয় এই কাব্যগ্রন্থ। এই বইটির প্রকাশক কবি, গল্পকার, সংগঠক ও শিশু সাহিত্যিক আবুল খায়ের।

অপূর্ণ গোধূলি বইটির প্রতিটি কবিতা পরতে পরতে কবি বুনেছেন প্রেমের গল্প। প্রেমের সঙ্গে প্রকৃতিকে মিলিয়েছেন। বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে এনেছে কলমে আলতো ছোঁয়ায়। সোনালী অতীত কবিতার একটি প্যারায় কবি লিখছেন, 
কোনো বৈষয়িক হিসাবনিকাশ যেখানে থাকবে না।
যেখানে মন ছুটে যাবে সাইক্লোনের মতো
সুনামির মতো ভাসিয়ে নিয়ে যাবে আমায়
নিশ্চিন্তে, সীমাহীন আত্মবিশ্বাসে
ঠিক যেমন অভ্যুত্থান রুখে দেয় বিপর্যয়।
প্রতিটি কবিতায় লেখকের কলম কখনো হয়ে উঠেছে তুলির নরম শরীর কিংবা কখনো হয়ে উঠেছে ক্ষুরধার ছুরির মতো। অব্যক্ত সেই প্রেমের কথায় ফুটে উঠেছে চিত্রপটে। অব্যক্ত প্রেম কবিতার একটি পরতে কবি লিখছেন, 
কিছু কিছু ভালোবাসা আছে
অজান্তেই হৃদয় গহীনে 
মহীরুহ হয়ে ওঠে।
একদিন হঠাৎ করেই
রূপকথার গল্পের মতো
সুপ্রাচীন বিশাল বটবৃক্ষ
ডাল-পালা মেলে সমগ্র
অস্তিত্বকে ছায়া দেয়।
তসলিমা হাসানের লেখা মানে প্রাণপ্রকৃতিতে ভরা বাঙালির চিরচেনা রূপ। অপূর্ণ গোধূলি বইটিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। মেঘের ভালোবাসা কবিতায় প্রাণভরে লিখেছেন,
কদম ফুলের মঞ্জুরি হাওয়ায় ঝরে
সারি সারি তালবন নদীর ওপারে।
কালো মেঘ, সাদা মেঘ দূর আকাশে
পাশাপাশি ওরা যেন হাওয়ায় ভাসে।
নদীপথে দেখি তারে ছোট ডিঙ্গায়
হাতছানি দিয়ে শুধু ডাকে ইশারায়।
কবে শেষ কথা হলো মনে নেই আর
এই ভরা বর্ষায় দেখা আবার।
চারিপাশে ধানক্ষে সবুজে সবুজ
মেঘের ডাকে ছুটে যায় মন যে অবুঝ।
নদী পাড়ে বাঁশ বনে বাঁধা ছোট নাও
পানকৌড়ি, ডাহুক-ডাহুকীর দেখা পাবে যদি তুমি যাও।
‘কোনো নালিশ নেই’ কবিতায় লেখক নিজেকে দেখেছেন ভেঙেচুরে। হৃদয়ে অব্যক্ত প্রেম বলে দেয়,
ভালোবাসলে কোনো অভিযোগ রাখতে নেই
ভালোবাসলে শুধু বুক ভরে ভালোবাসতে হয়।

কবি ও গল্পকার তসলিমা হাসান

লেখকের অন্যান্য বইয়ের মতো অপূর্ণ গোধূলিও পাঠকদের মনের ক্ষুধা মেটাতে সক্ষম হবে বলেই আশা করা যায়।

কবি ও গল্পকার তসলিমা হাসানের জন্ম বরিশাল শহরে। সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে অনার্স শেষ না হতেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। নব্বইয়ের দশকে উত্তর আমেরিকা ও বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিনে নিয়মিত লিখেছেন। এরপর দীর্ঘদিন দূরে ছিলেন লেখালেখি থেকে। ১৯৮১ সাল থেকে জার্মানিতে তিন বছর কাটিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন কানাডায়। সেখানে চাকরি ও নানান ব্যস্ততার মধ্যেও নিরবে-নিভৃতে চালিয়ে যাচ্ছেন সাহিত্য-সাধনা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বর্হিবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজে যুক্ত থাকছেন প্রতিনিয়ত।

ইত্তেফাক/এএইচপি