অনেক দিন আগে পৃথিবী ছিল ভারি সাদামাটা। পশুপাখি বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াত। কুকুর আর কুমিরের মধ্যে ছিল বেশ ভাব। বড় এক নদীর তীরে এক বাড়িতে কুমির ও কুকুর থাকত।
সেই সময়ে কুমিরের মুখ আর চোয়াল ছিল খুব সরু। কুমির সহজেই খাবারের যে কোনো টুকরো চিবোতে পারত। নদীর পানিও খেত ছোট ছোট চুমুকে। সব খাবার কেবল কুমিরের ভাগ্যেই ছিল। কুকুরের তেমন খাবারের সাধ্য ছিল না।
একদিন কুকুর ভীষণ বিরক্ত হয়। কুমিরকে একটা ছুরি দিয়ে বলে, ‘দয়া করে আমার মুখটা একটু কেটে দাও। সবকিছু যেন খেতে পারি।’
কুমির রাজি হয়, ‘ঠিক আছে। আমার মুখটাও তোমার মতো করে দেবে।’
কুমির তখনই ছুরি দিয়ে সুন্দরভাবে কেটে কুকুরের মুখটা সরু করে।
কুকুর তো মহা খুশি। কোনো কিছুর দিকেই আর খেয়াল নেই। কুকুর ছুরি দিয়ে মুখের বদলে কুমিরের মাথার উপরটা দু’টুকরো করে।
এমনটায় কুমির ভীষণ রেগে গিয়ে কুকুরকে বলে, ‘দেখ, কেমন অদ্ভুত লাগছে! বনের পশুপাখির কাছে আমি যেন এক হাসির জিনিস। পানিতে লুকোনো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এমন কাজের ক্ষমা নেই। কখনো নদীর তীরে এসো না। তোমায় পেলে গিলে খাব।’
সেই থেকে বিশাল মুখের কুমির নদীর ধারে কুকুরের অপেক্ষায় থাকে।
রূপান্তর: কুতুব আজাদ
