কু মি ল্লা বি শ্ব বি দ্যা ল য়

যেভাবে দেখতে চাই

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১৯:৪২

 

২৮ মে, ২০০৬। দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ বিদ্যাপীঠে প্রথমে সাতটি বিভাগের ১৫ জন শিক্ষক ও ৩০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে ২০০৭ সালের ২৮ মে। এবছর বিশ্ববিদ্যালয়টি তার প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পার করে ১৪ তে পা দিয়েছে। এই ১৩ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঘটেছে নানা পরিবর্তন। বর্তমানে ১৯টি বিভাগে অধ্যয়ন করছে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগের সাতটি ব্যাচ তাদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে বেড়িয়েছেন দেশ েঅনেকেই নিয়োজিত রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম বর্ষে পদার্পণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরছেন— মো. জাহিদুল ইসলাম

 

আবেগের প্রাচীর ভেঙে বাস্তবতার নিরিখে বলব প্রাণের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ বছরে আশানুরূপ অবস্থানে যেতে পারেনি। শুরু থেকেই একটার পর একটা হোঁচট খেয়েই এসেছে। এটা দুঃখজনক। আগামীতে কুবিকে একটি গুণগত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ও প্রশাসনকে একই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কাজ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা এবং ক্যারিয়ার ও মননশীলতার উন্নয়ন দরকার।

—ড. মো. মাহাদী হাসান, সাবেক শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ।

 

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি গর্বিত। প্রতিষ্ঠার এতো বছর পরও রয়ে গেছে পরিবহন এবং অবকাঠামোগত সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরেও হয়নি সমাবর্তন অনুষ্ঠান। বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী স্যার ডিসেম্বরে সমাবর্তন অনুষ্ঠান করার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি বর্তমান ভিসি স্যার অনতিবিলম্বে সব সমস্যার সমাধান করবেন। শিক্ষার্থীরা দেশে এবং বিদেশে তাদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবেন।

—আমজাদ হোসেন অর্ণব, সাবেক শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ।

 

প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও কিন্তু সে তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও শিক্ষার মান বাড়েনি বললেই চলে। একের পর এক উপাচার্য আসেন নতুন করে আমাদের স্বপ্ন দেখান। বর্তমানে সমসাময়িক প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে নিজের স্থান করে নেওয়াটাও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। নানামুখী জর্জরিত সমস্যা থেকে উঠে আসুক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। শুভ জন্মদিন প্রিয় ক্যাম্পাস।

—মিজান উদ্দীন ভুঁইয়া, সাবেক শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ।

 

হাসি, আনন্দ, দুঃখ, স্মৃতি, আড্ডা সবকিছু একটি নাম-ই কুবিকে ঘিরে। প্রতিষ্ঠার এতো বছর পরও কিছু মৌলিক সমস্যা রয়ে গেছে। যেমন-গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বইসহ পাঠাগার, পূর্ণাঙ্গ খেলার মাঠ, শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিত্সা ব্যবস্থা। প্রত্যাশা করি সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ্য, বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী স্যারের হাত ধরে আমাদের সব সমস্যার সমাধান হবে।

—মাহিনুর আক্তার, সাবেক শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ।

 

উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের অজানা এক ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছে। অল্পতে তুষ্টি থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা যথার্থ প্রমাণ দিতে সক্ষম হচ্ছে। জীবনে মানুষ হতে পেরেছি কিনা জানি না; তবে মানুষের মতো হবার যে শিক্ষা পেয়েছি সেটার দাবিদার নিঃসন্দেহে কুবি। পরিশেষে, কুবির পথচলা শুভ হোক। প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে খুব দ্রুত কুবি হয়ে উঠুক সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র।

—মেহেরুন নেছা, সাবেক শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ।

 

কুবির ১৩ বছর পূর্তিতে আমার প্রতিক্রিয়া হলো— অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মান বাড়ানো এসবের কথা সবাই বলবে। আমিও বলছি। তবে একটা চাওয়া আছে! কুবি থেকে যখন একজন ছাত্র বেরিয়ে আসবে তার বিদায়টা যেন সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে হয়। সমাবর্তন প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার। সমাবর্তনের মধ্য দিয়েই একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পরিপূর্ণতা পায়। আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবর্তন হবে।

—রাশেদুম মুনিরা, সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ।