আবিরের সফলতা

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১৯:৪২

 

 

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং

এন্ড টেকনোলজি (বুয়েট) এর তড়িত্ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক

শিক্ষার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান (আবির) ৩৭তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে ৯ম স্থান অধিকার করেছেন। তার গল্প লিখেছেন—

এম এম মুজাহিদ  উদ্দীন

 

বাড়ি তার খুলনা

খুলনার খালিশপুরেই তার বেড়ে উঠা। পিতা মো. গোলাম এহিয়া ও মাতা খালেদা হাসিনের আদরের বড় সন্তান আবির। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন বিজ্ঞান ও গণিত দুইটি বিষয়েই অকৃতকার্য হন। তখন স্কুল থেকে বলা হয়েছিল এভাবে খারাপ করলে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। অন্যদিকে আবিরের বাবা ও প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বলেছিলেন, এভাবে খারাপ করলে আর তিনি পড়ালেখা করাবেন না। তখন থেকেই আবির মনের মধ্যে প্রচণ্ড জেদ নিয়ে পড়াশোনা করতে থাকেন। এরপর থেকে আর আবির কোনো পরীক্ষায় খারাপ ফল করেননি। অষ্টম শ্রেণিতে পেয়েছেন সরকারি বৃত্তি। খালিশপুরের রোটারি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে এ+ পান। খুলনার পাবলিক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ও সব বিষয়ে এ+ পান। মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক দুইটাতেই বোর্ড ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পান।

 

নতুন জীবনের সন্ধানে

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রচুর টিউশনি করতেন। ফুটবল খেলায়ও পারদর্শী ছিলেন। অনার্সে সিজিপিএ ৩.৬৮ অর্জন করেন। সময়টা ছিল ২০১৬ সাল। এবছরেই তার জীবনের নানান অধ্যায় যোগ হতে থাকে। আবির ভেবেছিল বুয়েটের মাস্টার্সে পড়ার চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে পড়লে আলাদা মূল্যায়ন হবে। আইবিএ হোস্টেলেও থাকা যাবে। প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই আইবিএতে চান্স পেয়ে যান। ভর্তি হন আইবিএতে। সেই একই বছর ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। অন্যদিকে বিসিএস পরীক্ষার জোর প্রস্তুতি নিতে থাকেন। তার মাঝে বিয়েও করে ফেলেন। বিসিএস প্রস্তুতিতে স্ত্রী সুরাইয়া ইয়াসমিন সাহায্য করতেন। প্রতিদিন রাতে পড়া শেষে স্ত্রীকে বলতেন অধীত টপিকস থেকে প্রশ্ন করতে। গণিত ও বিজ্ঞানে দক্ষ থাকায় সাধারণ জ্ঞান, বাংলা ও ইংলিশে গুরুত্ব দিতেন। পড়ার সময় কঠিন বিষয়গুলো দাগিয়ে রাখতেন সেগুলো রিভিশন দেওয়ার সময় পড়তেন। প্রতি মাসেই মডেল টেস্ট বই থেকে মডেল টেস্ট দিয়েছেন। একই বছরে জীবনের প্রথম বিসিএস, ৩৭তম এর প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন।

 

বিসিএস প্রত্যাশিতদের পরামর্শে

বিসিএস পরীক্ষায় যারা অবতীর্ণ হতে চায়, তাদের জন্য আবিরের পরামর্শ হলো, বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেকে তার দুর্বল বিষয়গুলো ভয়ে পড়ে না। কিন্তু ভয় না পেয়ে দুর্বল বিষয়গুলোতে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। একটি বিষয়ের একাধিক গাইড বই না পড়ে একটি বই অনুসরণ করে নতুন তথ্য পেলে তা বইয়ে লিখে রাখা যেতে পারে। অন্যে কতটুকু পড়লো, কত বছর ধরে পড়ছে, কয় লক্ষ প্রার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে— এসব না ভেবে নিজে কৌশলগতভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যা পড়লাম তা আত্মস্থ করা। ধৈর্য ধরে আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারলে সফলতা আসবে।