একলা চলো রে...

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১৯:৪৭

আমাদের দেশের মেয়েরা এখন একাই  দেশ-বিদেশ ভ্রমণে উত্সাহী হচ্ছে। মেয়েদের দেশ-বিদেশ ভ্রমণের এই দুরহ কাজকে

 সহজ করে তোলার জন্যই কাজ করে যাচ্ছে ট্রিপজিপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান

  মাহবুব নাহিদ

 

বাংলাদেশের মেয়েরা এখন একা ইউরোপ ঘুরতে যায়। দিন এখন পরিবর্তন হয়েছে, বোনেরা মিলে বিদেশ ঘুরে আসা এখন স্বপ্ন নয়। আমাদের দেশের মেয়েরা এখন একাই  দেশ-বিদেশ ভ্রমণে উত্সাহী হচ্ছে। মেয়েদের দেশ-বিদেশ ভ্রমণের এই দুরহ কাজকে সহজ করে তোলার জন্যই কাজ করে যাচ্ছে ট্রিপজিপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কথা হয়েছিলো ট্রিপজিপের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার কানিজ ফাতেমার সাথে। তার কাছ থেকেই জানা গেলো ট্রিপজিপের কর্মকাণ্ড, তাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যত্ ভাবনা।

ট্রিপজিপ যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালে কিন্তু এর মধ্যেই তারা বহুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা মূলত তিন ধরনের প্রোগ্রাম পরিচালনা করে থাকে। সাধারণ ট্রাভেলারদের জন্য এক ধরনের প্রোগ্রাম আর নারী ও শিশুদের জন্য স্পেশাল প্রোগ্রাম। সাধারণ ট্রাভেলার বলতে যারা দেশ-বিদেশে কাজে আর বেড়ানোর উদ্দেশ্যে যেয়ে থাকে তাদের সকল ধরনের সুবিধা সরবরাহ করে থাকে ট্রিপজিপ। আমাদের দেশের পর্যটন এলাকাকে চারটি ভাগে ভাগ করে আর পৃথিবীর অন্যান্য দর্শনীয় স্থানে ট্যুর আয়োজন করে থাকে ট্রিপজিপ। ভিসা প্রসেসিং, টিকেটিং, ট্যুর গাইডসহ সকল ধরনের সুবিধা একসাথে দিয়ে থাকেন। এক জায়গায় সব ধরনের সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারটা আসলেই অসাধারণ। তাদের সকল কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা যায় আর ঊগও এর মাধ্যমে বিল প্রসেসিং করা যায়। আমরা সাধারণত অনলাইনের কাজে অভ্যস্ত নই কিন্তু এই বিষয়টি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পৃথিবী যখন তড়িত্ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমরা কেনো পিছিয়ে থাকব? ই-কমার্সে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা তাদের একটি অন্যতম লক্ষ্য। আমরা সাধারণত ট্যুরে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানিতে পড়ি। একটা জায়গায় গিয়ে কোথায় থাকবো, কোথা থেকে টিকেট কাটোবো এগুলো বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সকল কিছুই আগে থেকে নিশ্চিত করে রাখার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ট্রিপজিপ। একটা জায়গায় ট্যুর শেষ করে এসে ট্রিপজিপের প্লাটফর্মে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করারও সুযোগ থাকে যার দ্বারা পরবর্তীতে যারা একই জায়গায় ট্যুরে যাবে তাদের জন্য উপকার হবে।

এছাড়া ট্রিপজিপের সবচেয়ে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে নারীদের নিয়ে কাজ করা। নারী ট্রাভেলারদের দেশ-বিদেশ ভ্রমণে সর্বোচ্চ উদ্বুদ্ধ করা ও সহযোগিতা করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে তারা। নারীদের সাথে বাচ্চাদের নিয়েও তারা আয়োজন করে বিভিন্ন প্রোগ্রাম। কিডস ক্যাম্প, মম এন্ড কিডস ট্রিপসহ নানা ধরনের আয়োজন করে থাকে তারা। মম এন্ড কিডস ট্রিপে তারা মা ও বাচ্চাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে গিয়ে বিভিন্ন আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নারী ট্যুরিস্টদের নিয়ে বিভিন্ন সময় ক্যাম্পেইন করা, ফটো কন্টেস্ট, ব্লগ রাইটিংসহ নারীদের নিয়ে নানান ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তারা। নারী ও বাচ্চাদের নিয়ে এমন আয়োজন আমাদের দেশে একদমই নতুন। এটি দেশের নারী সমাজের জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্যুরের পাশাপাশি আয়োজন করেছে ভারতের দশটি বিশেষ স্থানে ও অন্য দশটি দেশের দশটি স্থানে বিশেষ ট্যুর। এছাড়াও তারা আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘সি ক্যাম্প’ জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টে সেই অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ধারিত কিছু নারীদের নিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনে থাকবে ক্যারিয়ার আড্ডা, অর্থনৈতিক উন্নতির শিক্ষা, আত্মরক্ষার শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সাইবার ক্রাইম, বুদ্ধিমত্তা, আধুনিকতা, মুক্তভাবে ট্যুর-ট্রাভেল করা নানান ধরনের কাউন্সেলিং কার্যক্রম।

ট্রিপজিপের কার্যক্রমের মধ্যে একটি বিশেষ কাজ হচ্ছে ইনফরমেশন গাইডের মাধ্যমে আমাদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী স্থান সম্পর্কে বিদেশিদের জানানো। দেশি ট্রাভেলারের পাশাপাশি বিদেশি ট্রাভেলাররাও আমাদের দেশে এসে ভির জমাবে এমন স্বপ্ন দেখে ট্রিপজিপ। ট্রিপজিপ চায় নারীরা এগিয়ে যাক, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হোক, তারা নির্দ্বিধায় দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াক। নারীদের এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে পাশে থাকবে ট্রিপজিপ। পাশাপাশি ট্রিপজিপ হয়ে উঠবে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক আদর্শের নাম।