‘দীর্ঘ ৫০ বছরের যাত্রাপথ তো মসৃণ ছিল না। নানা আন্দোলন-সংগ্রাম, উত্থান-পতন, এমনকি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। তারপরও আমাদের নাট্য ভাবনাকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করেছি। বলতে পারেন, আমার জীবনের পুরোটাই প্রায় আরণ্যককে নিয়ে।’ আরণ্যক নাট্যদলের ৫০ বছরের পথচলা নিয়ে জানতে চাইলে কথাগুলো বলেন আরণ্যক প্রধান ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ।
দীর্ঘ এই যাত্রায় সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সফলতা-ব্যর্থতার বিষয় আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ এটা তো নাটক। আমাদের নাটকগুলো দর্শকরে মনে কতটা জায়গা করে নিয়েছে সেটা খুব সহজে বোঝা যাবে না। কিন্তু চেষ্টা করেছি আমাদের মতো করে কাজ করতে। নাটকের মধ্য দিয়ে শ্রেণি-সংগ্রামের কথা বলেছি, মানুষের কথা বলেছি। আরণ্যকের সব নাটকই শ্রেণি-চেতনার কথা বলে।’
তবে আরণ্যক ৫০ বছরের নাট্যচর্চায় অসংখ্য শিল্পী তৈরি করেছে। যারা এখন দেশের শোবিজ অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু, চঞ্চল চৌধুরী, আখম হাসান, শামীম জানান, জয়রাজ, মোমেনা, তমালিকা কর্মকারসহ অনেকে।
এদিকে ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘থিয়েটারের নতুন বার্তা বিধ্বস্ত পৃথিবীর জন্য’—শ্লোগানে ৫০ বছর উদযাপন উত্সব আয়োজন করেছে আরণ্যক। গত ২৭ জানুয়ারি থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে উত্সবটি শুরু হয়েছে। যেটি শেষ হবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি।
৮ দিনের উত্সবে আরণ্যকের নতুন ও পুরনো ৯টি নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বহিরাঙ্গনের উন্মুক্ত অনুষ্ঠান। সঙ্গে সেমিনার, যন্ত্রসংগীত, আদিবাসী সংগীত, প্রকাশনা উত্সবসহ বিভিন্ন আয়োজনও রয়েছে। উত্সবে প্রতিদিন নাট্যপ্রেমীদের উপস্থিতি রয়েছে লক্ষ্য করার মতো। পাশাপাশি তারা আরণ্যকের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও মুগ্ধতার কথাও প্রকাশ করছেন নানা মাধ্যমে।
অন্যদিকে দলটি নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘দেখুন, পরিকল্পনা তো অনেক-ই আছে। তবে সেগুলো এখনই বলা যাবে না। আগে ৫০ বছরের আয়োজনগুলো সফলভাবে শেষ হোক।’ উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে নাট্যচর্চায় যাত্রা শুরু করে আরণ্যক। ওই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ মুনীর চৌধুরীর ’কবর’ নাটক দিয়ে প্রথম মঞ্চে আসে তারা। সেই নাটকটির প্রথম মঞ্চায়নে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত সুভাষ দত্ত, আলী যাকের ও ইনামুল হক এবং নির্দেশনা দিয়েছিলেন মামুনুর রশীদ।

২০২১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের চূড়ান্ত তালিকা