হাইব্রিড ইলেকট্রিক কার তৈরি করলেন একদল তরুণ

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১৯:৫০

>> মেহেদী হাসান গালিব

 

আমাদের দেশের অধিকাংশ শিশু-কিশোরদের হাতে বই তুলে দেওয়ার অনেক আগে থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলতে শোনানো হয় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য—পড়াশোনা করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে। ছোট্ট এই বাক্য কোমলমতি শিশুদের মস্তিষ্কে এমনভাবে গেঁথে যায় যে, পরবর্তী সময়ে তারাও ছুটতে থাকে গতানুগতিক পুঁথিগত বিদ্যার পিছনে। কিন্তু পুঁথিগত বিদ্যার পিছনে দৌড়ে অন্যের বানানো গাড়িতে চড়ার পরিবর্তে নিজেরাই একটি গাড়ি বানিয়ে ফেলার স্বপ্ন দেখছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। কিন্তু একটা গাড়ি বানানো কি চাট্টিখানি কথা—চাইলাম আর হয়ে গেল! তবে তাদের ভাগ্য সহায় ছিল। তাই শেষমেশ তাঁরা পৌঁছাতে সক্ষম হলো নিজেদের স্বপ্নের চূড়ায়। বানিয়ে ফেলল দেশের প্রথম হাইব্রিড কার।

হাইব্রিড কার তৈরির গল্পটি একটু পেছন থেকে শুরু করা যাক। ২০১৪ সালের কথা। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হকের কাছে একটি প্রজেক্ট আসে। প্রজেক্টটি ছিল একটি হাইব্রিড কার বানানোর। ড. মো. এমদাদুল হক প্রজেক্টটির দায়িত্ব দেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৩ সিরিজের শিক্ষার্থী মো. মাহবুবুর রহমান ও ওবাইদুল হাসানের ওপর। এরপর ড. মো. এমদাদুল হক ও ফজলুর রশিদ যথাক্রমে প্রজেক্ট হেড ও সহকারী প্রজেক্ট হেডের দায়িত্ব নিয়ে একটি দল গঠন করেন। এতে যুক্ত হন ১৩ সিরিজের আরো দুজন এবং ১৪ সিরিজের একজন শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন তানভীর রহমান, তারিকুল ইসলাম ও মো. ইসমাইল হক ফরিদ। দলটি কাজে নেমে পড়ে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে। অ্যারোডায়নামিক্সের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হলো গাড়ির ডিজাইন। এবার গাড়ির পার্টস খোঁজার পালা। এ পর্যায়ে এসে বাঁধল বিপত্তি—বাংলাদেশে গাড়ির কোনো পার্টস তৈরি করা হয় না। তাই তারা খুঁজতে শুরু করলেন এমন একটি গাড়ি যার ডিজাইনের সঙ্গে মিলে যাবে তাদের ডিজাইন। সৌভাগ্যবশত তাঁরা পেয়েও গেলেন। তবে সেটাকে পুরোপুরি গাড়ি বলা যায় না, গাড়ির ভগ্নাংশ। সঙ্গে একটি নষ্ট ইঞ্জিন ও বডির কিছু পার্টস। এবার পালা নষ্ট ইঞ্জিন সচল করার। ইঞ্জিন ঠিক করতে সময় লাগে প্রায় দুই মাস। পাশাপাশি চলতে থাকে অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ।

২০১৮ সালের শেষদিকে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে দলটি। চাকা, বডির বিভিন্ন পার্টস, সোলার প্যানেল বসানো এবং পেইন্টসহ সম্পূর্ণরূপে কারটি তৈরি হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে। শেষমেশ নিজেদের স্বপ্ন ছুঁতে সক্ষম হয় দলটি! প্রায় ১২০০ কেজি ওজনের এই হাইব্রিড কারটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি সৌরশক্তির মাধ্যমেও চলতে সক্ষম।

তবে এখানেই স্বপ্ন দেখা থামাতে চায় না দলটি। দেশের প্রথম হাইব্রিড কার তৈরির সাফল্য যেন তাঁদের স্বপ্নের পথকে করে দিয়েছে অনেকখানি প্রশস্ত। দলটি স্বপ্ন দেখে একদিন বাংলাদেশের রাস্তায় রাস্তায় ছুটে চলবে তাঁদের এই হাইব্রিড কার, জ্বালানির অপচয় রোধের পাশাপাশি যা পরিবেশকে সবুজ রাখতে পালন করবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।