স্পোর্টস রিপোর্টার, টনটন (ইংল্যান্ড) থেকে
টনটনে গতকাল লিটন যখন ব্যাট করতে নামেন ততক্ষণে বাংলাদেশের তিন উইকেট নেই। একে একে বিদায় নিয়েছেন সৌম্য, তামিম ও মুশফিক। একে তো বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচ; তার উপর ম্যাচটা হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো টিমের সাথে যারা খুবই ‘আনপ্রেডিক্টেবল’।
সঙ্গত কারণেই লিটনের মনে ভয় কাজ করছিল। সেই ভয় এত সহজে কাটেনি। ধৈর্য ধরে খেলতে হয়েছে পরের ছয়টি ওভার। নিজের স্কোর ৩০ হওয়ার পরই লিটন বুঝতে পারেন আর ভয় পেলে চলবে না। এবার আগ বাড়িয়ে খেলতে হবে। করলেনও তাই। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৬৯ বলে চার ছক্কা আট বাউন্ডারিতে উপহার দিলেন ৯৪ রান। সাকিব ও লিটন চতুর্থ উইকেট জুটিতে গড়েছেন ১৮৯ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ। ওয়ানডেতে চতুর্থ উইকেটে এটি বাংলাদেশের সেরা জুটি। বিশ্বকাপে যে কোনো জুটিতেই সর্বোচ্চ।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তার ভয় পাওয়ার গল্প শোনালেন লিটন। বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে যাওয়ার সময় নার্ভাস ছিলাম প্রথমদিকে। কোনো কিছু মনে হচ্ছিল আমার অনুকূলে নেই। ৩০ করার পর মনে হয়েছে উইকেটে মানিয়ে নিয়েছি, এখন ভালো করতে পারব। স্বাচ্ছন্দ্যে খেলার একটা ব্যাপার থাকে না। আমার মধ্যে সেটা ছিল না। ৩০ করার পর আমার কাছে মনে হলো আমি পারব।’
সব প্লেয়ারই চায় যে যার সাথেই পার্টনারশিপে থাকুক সেও রান করে আমিও রান করি। টিম গেম যাকে বলে, ‘সাকিব ভাই রান করলে আমার ভালো লাগে। আমি রান করার পরও উনার অনুভূতিটা ভালো হচ্ছিল। আমি যখন ফিফটি করি উনি দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। উনিও জানের যে আমি এই জায়গায় অভ্যস্ত না। এটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জিং জায়গা। উনি আমাকে অনেক সাহস দিয়েছেন।’
সবসময় টপ অর্ডারে খেলে আসলেও গতকাল লিটন খেলেছেন পাঁচ নম্বরে। এটা কিভাবে নিয়েছিলেন লিটন। বলেন, ‘আমি অনেক নার্ভাস ছিলাম। আয়ারল্যান্ডে খেলেছিলাম অনেক আগে। খেলায় ধারাবাহিকতা না থাকলে আপনি বুঝবেন না যে কাজটা আসলে কতটা কঠিন। নিজে খেলা আর মাঝে মধ্যে ফিল্ডিং করা বা সাপোর্ট দেওয়া সেটা আলাদা বিষয়। এতদিন টপ অর্ডারে খেলেছি। আজ পাঁচ নম্বরে খেললাম। প্রথমে নার্ভাস ছিলাম। পরে তা কেটে গেছে। আমার কাছে মনে হয় পরবর্তীতে এই জিনিসগুলো আমাকে সাহায্য করবে।’
