প্রথম বারের মতো ‘বন্যা’কে থিম করে শুরু হয়েছে ৯ দিনের ঢাকা আর্ট সামিটের ষষ্ঠ আসর। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন দেশ-বিদেশের ১৬০ জনেরও বেশি শিল্পী। এবারের আসরে গুরুত্ব পাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, লৈঙ্গিক সম্পর্ক, বিভিন্ন প্রজন্মের বোঝাপড়া ও নানা সম্প্রদায়ের জীবনাচরণের মতো বিষয়গুলো।
ঢাকা আর্ট সামিট-২০২৩-এ এবারের প্রতিপাদ্য ‘বন্যা’কে ঘিরে প্রদর্শনীটি নানাভাবে সাজানো হয়েছে। বন্যা এ দেশের জন্য দুর্যোগ যেমন একই সঙ্গে আশীর্বাদও। কারণ বন্যার কারণেই আমাদের জমি উর্বর থাকে। আয়োজনে তাই উঠে এসেছে যে নদীমাতৃক বাংলাদেশে ‘বন্যা’ শব্দরূপটি কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় বরং এর চেয়ে বেশি কিছু। এবারে ঢাকা আর্ট সামিটে ‘বন্যা’কে উপস্থাপন করা হয়েছে ভিন্নরূপে; যে প্রশ্ন তোলে গতানুগতিক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে—আবশ্যকতা ও অনাবশ্যকতা, পুনর্নির্মাণ ও দুর্যোগ, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক, নারী ও পুরুষ বিষয়ক ধারণা নিয়ে।
গতকাল শুক্রবার সকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবনে প্রধান অতিথি থেকে এ বছরের আর্ট সামিট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ঢাকা আর্ট সামিটের পরিচালক ও সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সামদানী, ঢাকা আর্ট সামিট ও সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি রাজীব সামদানী, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মোহাম্মাদ সাকের শামীমসহ অন্যরা।
এছাড়া, সামদানী আর্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন ১২ জন বাংলাদেশি শিল্পী, যাদের শিল্পকর্মে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ইস্যু প্রাধান্য পাচ্ছে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত শিল্প সমালোচক ও শিল্প সংগ্রাহকদের অংশগ্রহণে থাকছে ওয়ার্কশপ, পারফরম্যান্স সেমিনারসহ নানা প্রদর্শনী।
৯ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এই আয়োজন চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আর্ট সামিটের ষষ্ঠ আসরে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন—সুমাইয়া ভ্যালি, অ্যান্টনি গ্রোমলি, আসফিকা রহমান, বিনোদবিহারী মুখার্জি, ভাষা চক্রবর্তী, চিত্রপ্রসাদ, ড্যানিয়েল বৈদ্য, দামাসাস হাচা, ফয়াসাল জামান, গাজালেহ আভারজামানি, হাবিক চুহেন, হাবিবা নওরোজ, জামাল আহমেদ, জয়দব রোজা, জনি রুসিকা, কবির আহমেদ মাসুম চিশতি, কামরুজ্জামান সাধন, লালা রুখ, ল্যাপডিয়াং সায়েম, মেরিনা পেরেজ সিমাও, নাবিল আহমেদ, নাজমুন নাহার কেয়া, পল তাবুরেট, রূপালী গুপ্তা ও প্রসাদ শেঠি, পূর্ণিমা আখতার, রফিকুন্নবী, সাইফুদ্দিন আহমেদ, সাহেজ রাহাল, তানিয়া গয়াল, ভেরোনিকা হাপচেঙ্কো, ইয়াসমিন জাহান নূপুর, রিজভী হাসান, গণেশ পাইন প্রমুখ।
বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রতিষ্ঠিত ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় শিল্পগুলো দর্শনার্থীদের দেখার সুযোগ করে দিতে ২০১২ সাল থেকে ঢাকা আর্ট সামিটের আয়োজন করে আসছে সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রতি দুই বছরে আর্ট সামিটের আয়োজন করে থাকে। ঢাকা আর্ট সামিটের সর্বশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালে। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এবার তিন বছরে এই প্রদর্শনীর পর্দা উঠল।
