শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
বরিশালের একমাত্র গণগ্রন্থাগারে রয়েছে জনবল সংকট। এছাড়া জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ায় বাড়ছে ঝুঁকি।
২০০৬ সালে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ) মসজিদ গেটের বিপরীতে অত্যাধুনিকভাবে নির্মিত চারতলা এ ভবনের নিচতলায় চলছে অফিসিয়াল কার্যক্রম। দ্বিতীয় তলায় শিশু পাঠকদের জন্য উপযোগী বই শোভা পাচ্ছে। সেখানে সকাল থেকে শিশু পাঠকরা উপস্থিত হয়। তৃতীয় তলায় জনসাধারণের জন্য বিজ্ঞানসহ নানা ধরনের বই রাখা হয়েছে। আর চতুর্থ তলায় পত্র-পত্রিকা রাখা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে এ গ্রন্থাগারে পাঠকের তেমন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বই পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, এখানে প্রায় আধুনিক সব ধরনের বই রয়েছে। পাশাপাশি পাঠক যারা আসেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। পাঠ কক্ষ কিংবা পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বুক সর্টার পদ ও পাঠকক্ষ সহকারীর পাঁচটি পদের চারটি শূন্য রয়েছে এ গ্রন্থাগারে। ফলে অনেক সময় নিয়ে বই খুঁজে নিচ্ছেন পাঠকরা।
গণগ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক খালিদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ জানান, এখানে যে ধরনের জনবল প্রয়োজন তার অনেকটাই নেই। সর্বোচ্চ পদ উপ-পরিচালকসহ লাইব্রেরিয়ানের পদটিও দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এছাড়া ২৩টি পদের মধ্যে ১৩টিই শূন্য। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষার্থী পাঠানোর জন্য বরিশালের প্রায় সব স্কুল ও কলেজে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী এলেও কেউ নিয়মিত সদস্য হতে চায় না। পর্যাপ্ত কম্পিউটার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেটসহ ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে পাঠক সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, ভবনটির ভেতর ও বাইরের অবস্থা জরাজীর্ণ থাকায় বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে সবাইকেই।
ইতিহাস গ্রন্থ সূত্রে জানা গেছে, ১৮৫৪ সালে তত্কালীন জেলা জজ ক্যাম্পবেলের উদ্যোগে এবং অশ্বিনী কুমার দত্ত, বিণয়ভূষণ গুপ্ত এবং নওয়াব মীর মোয়াজ্জেম হোসেনের সহযোগিতায় বিবির পুকুরের পূর্ব পাশে প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশালের প্রথম গ্রন্থাগার। ১৮৬১ সালে বরিশাল শহরে ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ওঠে ব্রাহ্ম সমাজ গ্রন্থাগার। সদর রোডে শহীদ মিনারের উল্টো দিকে ব্রাহ্ম সমাজের ওই বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপের মতো দাঁড়িয়ে আছে। ১৯০৪ সালে শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল আরো একটি গ্রন্থাগার। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পাঠাগার আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯১২ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ বরিশালের ফকিরবাড়িতে একটি শাখা স্থাপন করে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময় এই সংগঠন এবং পাঠাগারটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। মাঝে আরো কয়েকটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এদিকে ১৯৬৪ সালে ঝাউতলা রোডে প্রতিষ্ঠিত হয় পাঠচক্র পাঠাগারটি। আর স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সোভিয়েত মৈত্রী সমিতির পরিচালনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মৈত্রী পাঠাগার। ১৯৭৫ সালে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
