প্রতিবন্ধী আল মাহমুদের হুইলচেয়ার প্রয়োজন

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৩৯

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের বিনসাড়া গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে আল মাহমুদ (৩২) জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী। জীবিকার তাগিদে ছোট একটি দোকান করেন তিনি। দৈনন্দিন প্রয়োজনে তিনি হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। কিন্তু তার হুইল চেয়ারটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নতুন একটি হুইলচেয়ারের প্রয়োজন।   

আল মাহমুদ বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে একটাই হুইল চেয়ার ব্যবহার করছেন। যে কারণে দুইটা চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। বসার সিটের রেক্সিনও ছিড়ে গেছে। চটের বস্তা কেটে সিটের ওপর দিয়ে বসতে হয়। এছাড়াও চেয়ারে জং ধরেছে। হুইল চেয়ারটি ভালো থাকলে তিনি একাই হাতের সাহায্যে চাকা ঘুরিয়ে এক স্থান থেকে অন্যত্র যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু এখন তার অন্যের সাহায্যের দরকার হয়।

তিনি বলেন, অতি দরিদ্র পরিবারে জন্ম আমার। খেয়ে না খেয়ে দিনাতীপাত করেছি। তারপরও ভিক্ষা বৃত্তির চিন্তাও করি নাই কখনও। স্বল্প পরিসরে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে নিজের জীবিকা নির্বাহে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আল মাহমুদের ভাতিজি কেয়া খাতুন জানায়, পুরানো হুইল চেয়ার চালানোর মতো শক্তি তার বড় আব্বার (আলমাহমুদ) নেই। তিনি চেয়ারের পেছনে ধাক্কা দিয়ে যাতায়াতে সাহায্য করেন।

আল মাহমুদের মা আলেয়া খাতুন বলেন, ঢাকার এক ব্যক্তি ১৪ হাজার টাকায় আল মাহমুদকে দোকানের ঢোপ ঘরটি বানিয়ে দিয়েছিলেন। দোকানের মালামাল কেনার জন্য আরও দুই হাজার টাকা দিয়েছিলেন। সমাজের বিত্তবান কোনো মানুষ আমার ছেলেটির একটি হুইল চেয়ার ও দোকানের মালামাল কেনার জন্য কয়েক হাজার টাকা দিয়ে সহায়তা করলে খবুই উপকার হতো।

তিনি বলেন, আমরা অতি দরিদ্র। সরকারি সড়কের সঙ্গে সড়কের জায়গাতেই বসবাস করি। আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তারা সবাই জন্মগত প্রতিবন্ধী। মনিরুল নামের ১ ছেলে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে থেকে চিকিৎসার অভাবেই মারা গেছে। বেঁচে আছে আল মাহমুদ, আব্দুল আহাদ ও কাজলী খাতুন। এদের মধ্যে আল মাহমুদ ও কাজলী খাতুন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আরেক ছেলে আব্দুল আহাদ আংশিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।  

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, সমাজসেবা অফিস থেকে আল মাহমুদকে একটি হুইল চেয়ার ও তার দোকানের জন্য ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

ইত্তেফাক/আরএজে