উইঘুর মুসলমানদের ওপর চীন সরকারের চালানো নির্যাতনকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন দাবি করে জাতিসংঘের অধীনে এসবের তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইসলামিক প্রগতিশীল জনতা ফ্রন্ট। একইসঙ্গে ওআইসি ও মুসলিম বিশ্বকে উইঘুরদের রক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানায় সংগঠনটি।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গুলজা গণহত্যার ২৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘উইঘুর মুসলিমদের মুক্তি আর কতদূর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
সভায় লিখিত বক্তব্যে ইসলামিক প্রগতিশীল জনতা ফ্রন্টের আহ্বায়ক মাওলানা আতাউর রহমান আতীকি বলেন, ভৌগলিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিবেচনার মারপ্যাঁচে উইঘুর মুসলিমদের ইতিহাস সংগ্রাম, নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতায় পরিপূর্ণ। ফিলিস্তিনি, মুর, রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে মানুষ জানলেও চীনাদের রক্ষণশীল ও নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ব্যবস্থার কারণে উইঘুরদের বাস্তব পরিস্থিতি ও গুলজা ট্রাজেডি সম্পর্কিত তথ্য সাধারণ পর্যায়ে এখনো স্পষ্টভাবে পৌঁছায়নি।
তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের জানুয়ারির শেষ সময় থেকে শুরু করে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের গুলজা শহরে স্বাধীনতাকামী মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের দমন-নিপীড়নের দুঃসহ ঘটনা গুলজা গণহত্যা নামে পরিচিত। এ সময় ২০০ মানুষকে একসঙ্গে হত্যা করা হয়। অসংখ্য মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ৬০০ মুসলিমকে সরকারি হিসেবেই গ্রেপ্তার করা হয়। নিরস্ত্র জনতার ওপর এমন আগ্রাসনের ফলে অনেকই চীন থেকে পালিয়ে যায়। তারা পালিয়ে আফগানিস্তান, পাকিস্তানে গেলে সেখানেও রেহাই হয়নি। তৎকালীন আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের মুখে পড়ে ইতিহাসের ঘৃণিত ও কুখ্যাত গুয়ান্তানাম বে কারাগারে নতুন ঠিকানা হয়।
তিনি আরও বলেন, এমনকি চৈনিক বাহিনী মার্কিনিদের সহায়তায় সেখানেও জিজ্ঞাসাবাদের নামে ব্যাপক শারিরীক ও মানসিক নিপীড়ন চালায়। সেই বন্দিদের নিজ ধর্ম বিরোধী শিক্ষা দেওয়া হয়, মান্দারিন ভাষা শিখতে বাধ্য করা হয়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ প্রদানসহ নানা রকম মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবু জাফর কাসেমি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শহিদুল্লাহ আনসারী, ইসলামী মুভমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান, ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মাহমুদুল হাসান, ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়েদ আসআদ মাদানীর খলিফা মাওলানা আহসান হাবীব পীরে মাদানী, শাইখ মুফতি জুবায়ের গণী, আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদের সভাপতি মুফতি ওসমান গনি চৌধুরী, মাওলানা ইমরান ফয়সাল যুক্তিবাদী, মাওলানা আশরাফ আল হারুন প্রমুখ।
