সরকার শেয়ারবাজারে ক্রমাগত দরপতন রোধের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে কতিপয় প্রস্তাব করেছে। ডিভিডেন্ট আয় আগে বাত্সরিক ২৫,০০০ টাকা করমুক্ত ছিল, যা ৫০,০০০ টাকায় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থবছর ২০১৯-২০-এর প্রস্তাবিত বাজেটে লিস্টেড কোম্পানি যেন মুনাফার সিংহভাগ অংশ শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ নগদ হিসেবে বিতরণ করে, সেজন্য অবণ্টিত মুনাফা ও সঞ্চিতির পরিমাণ পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে বেশি অংশের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে শেয়ার হোল্ডারদের কম লভ্যাংশ প্রদানের মানসিকতার কারণে কোম্পানিগুলোর পরিচালকেরা বিচলিত হয়ে পড়েছেন। প্রস্তাবটি কিছুটা পরিবর্তন করা যেতে পারে। যেমন কোনো লিস্টেড কোম্পানির রিটেন আর্নিং বা রিজার্ভের পরিমাণ পরিশোধিত মূলধনের বেশি হলে ২০১৯-২০ কর বছর থেকে নিট মুনাফার পুরো অংশ শেয়ার হোল্ডারদের নগদ অথবা নগদ ও স্টক ডিভিডেন্ট হিসেবে বিতরণ করতে হবে। তবে স্টক ডিভিডেন্ট নগদ ডিভিডেন্টের বেশি হতে পারবে না। কোনো লিস্টেড কোম্পানি এর ব্যত্যয় ঘটালে ব্যত্যয়কৃত পরিমাণের ওপর ১০০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে। স্টক ডিভিডেন্ট প্রদানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা রোহিত করা হলে পূর্বের রিজার্ভের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। আগামী বছরগুলোতে শেয়ার হোল্ডাররা ভালো লভ্যাংশ পাবেন। তাদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা হ্রাস পাবে। শেয়ারবাজার লাভজনক বিনিয়োগ হয়ে উঠবে। শেয়ারবাজার স্থিতিশীল হবে। কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন হলে স্টক ডিভিডেন্ট প্রদান করতে পারবে। কোম্পানি প্রয়োজনে পুঁজিবার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সংগ্রহ করতে পারবে।
মো. আশারাফ হোসেন
আফতাবনগর, বাড্ডা, ঢাকা ১২১২
