শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি চলতি বছরের শেষ দিকে প্রবৃদ্ধিতে ফিরবে এবং সরকার ২০২৬ সাল নাগাদ দেশকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্ত করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোয়া ২ কোটি জনসংখ্যার দ্বীপদেশটিকে এখন ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা দেশটিকে ঋণখেলাপিতে পরিণত করেছে, বাধ্য করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ-র) কাছে ২৯০ কোটি ডলারের বেইলআউট চাইতে।
বুধবার পার্লামেন্টে নীতি বিষয়ক বিশেষ বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা ঋণাত্মক অর্থনীতি থেকে ধনাত্মকের দিকে যাচ্ছি। ২০২৩ সালের শেষদিকে আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি। আমরা শূন্যে নেমে যাওয়া রিজার্ভকে ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়াতে পেরেছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারির শেষে শ্রীলঙ্কার আনুষ্ঠানিক রিজার্ভের পরিমাণ পৌঁছায় ২১০ কোটি ডলারে, যা প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রিজার্ভের মধ্যে চীনের পিপলস ব্যাংক থেকে মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে আসা দেড় শ কোটি ডলারও রয়েছে; দ্বীপদেশটির হাতে তিন মাসের ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ না থাকায় এতদিন তারা এ বিনিময় করতে পারছিল না। আইএমএফের বেইলআউট কর্মসূচির অর্থ পেতে শ্রীলঙ্কা এখন তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে সর্ববৃহৎ ঋণদাতা দেশ চীনের সঙ্গে কাজ করছে, বলেন বিক্রমাসিংহে।
তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের সরাসরি আলোচনা হচ্ছে। সব পক্ষের কাছ থেকেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। আমরা এখন চীনের মতো অন্যান্য দেশের দৃষ্টিভঙ্গিও যেন একইরকম হয়, সেজন্য কাজ করছি। ভারত, জাপানসহ অন্যান্য ঋণদাতারাও এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। বিক্রমাসিংহে বলেন, সরকার অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারবে যদি জনগণ আরো ছয় মাস উচ্চ প্রত্যক্ষ কর সহ্য করতে পারে। আমরা যদি এই পরিকল্পনায় অটল থাকি, তাহলে দেউলিয়া তকমা থেকে ২০২৬ সালে বেরিয়ে যেতে পারব। যেমনটা আমি বারবার বলছি, যদি পার্লামেন্টের সব দল দেশ গড়ায় একত্রিত হতে পারে, তাহলে আমরা হয়তো সংকট থেকে আরো আগেই পরিত্রাণ পাব বলেন তিনি। বিক্রমাসিংহে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এ বছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনা।
দেশটিতে এখন যে কর, তা শ্রমজীবীদের ওপরই সবচেয়ে বড় আঘাত হয়ে এসেছে। যে কারণে ট্রেড ইউনিয়ন এবং বেসরকারি খাতের পেশাজীবীরা লাগাতার বিক্ষোভ দেখিয়েও যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার প্রধান মূল্যস্ফীতির হার, কলম্বো কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ডিসেম্বরে ছিল ৫৭ দশমিক ২ শতাংশ, জানুয়ারিতে তা খানিকটা কমে ৫৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
