খাগড়াছড়িতে জনপ্রিয় হচ্ছে বারমাসি কাটিমন আম

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৬:২৬

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার আমবাগানি কল্যাণ চাকমা। শখের বসে পশ্চিম থানা পাড়ায় মাত্র ৬ একর পাহাড়ি ঢালুতে ৪৫০টি কাটিমন আম গাছ লাগান। গাছ লাগানোর মাত্র তিন বছরের মধ্যে ফলন দিতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে আম বিক্রি শুরু হয়েছে। 

আমবাগানি কল্যাণ চাকমা বলেন, আমগুলো কাঁচা মিষ্টি, তাই আমের চাহিদা অনেক। কেজি প্রতি ৩০০/৪০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেড় লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করেছি। আশা করছি পুরো ফলন আসলে দশ লক্ষ টাকা বিক্রি হবে। তবে বারোমাসি এসব গাছের একই গাছে একসঙ্গে মুকুল, ছোট আম এবং পরিপূর্ণ আম দেখা গেছে। আর একারণে খাগড়াছড়িতে জনপ্রিয় হচ্ছে বারমাসি কাটিমন আম।

আমবাগানি কল্যাণ চাকমার, স্ত্রী শিক্ষক তনয়া চাকমা বলেন, অন্যান্য আমের তুলনায় কাটিমন আম দ্রুত ফলন দিচ্ছে, দাম বেশি, খরচ অনেক কম। অল্প সময়ে অধিক মুনাফা হবে। ইদানীং কাটিমন আম দেখতে প্রতিনিয়ত বাগানে লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকে বাগান করার জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন।

বাগান দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল্লাহ, নয়ন চাকমা বলেন, পাহাড়ে আম্রপালি চাষ হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলার আমের চাহিদা মিটিয়ে আম্রপালি দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। তবে এখন নতুন করে বারমাসি কাটিমন আম উৎপাদনে  মাইলফলক হবে বলে আমরা আশাবাদী।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, কল্যাণ চাকমার বারোমাসি কাটিমন আম বাগানটা আমরা দেখেছি। পাহাড়ে নতুন কাটিমন আম বছরের সব সময়  ফলন দিচ্ছে। এটি চাষ করে সারা বছর আয় করা সম্ভব। তার এ নতুন পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে গোটা জেলায় ছড়িয়ে দিতে চায়। যাতে এধরনের বাগানে বেশি করে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়। তার উদ্যমে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। 

কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, এটি থাইল্যান্ড প্রজাতির আম। সারা বছর একিই গাছে, মুকুল, কিছু কাঁচা, কিছু পরিপক্ব হয় যার কারণে ফলন কিছু কম হলেও কৃষক আমগুলো চড়া দামে বিক্রি করতে পারে। খাগড়াছড়ি হটিকালচারে বারোমাসি কাটিমন ৩০০০ টি কলম রয়েছে। কৃষকরা ইদানীং কাটিমন আম চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। পাহাড়ে বারোমাসি কাটিমন আম অফ সিজনে পাওয়া যাওয়ার  কারণে ৪০০/৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।  

ইত্তেফাক/এআই