নিয়ম মেনে সচেতন থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

প্রতি বছরই বাড়ছে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ছে প্রাণ

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৪৮

গত বছর সারা দেশে ২৪ হাজার ১০২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩০৩ জন নর-নারী আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। যার মধ্যে পুরুষ ২২৯ জন আর নারী ৭৪ জন। এছাড়া সম্পদের ক্ষতি হয়েছে ৩৪২ কোটি ৫৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৮৯ টাকার। যা গত বছর ছিল ৩৩০ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ১৯০ টাকা। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।  তথ্য মতে, ২০২২ সালে মোট ১ হাজার ৮০৮ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৬০৬ টাকা অগ্নিকাণ্ড হতে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১৩ দমকলকর্মী নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছে।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে সারা দেশে ২২ হাজার ২২২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৩০ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ১৯০ টাকার অধিক ক্ষতি হয়। এই এক বছরে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৮৮০টি। আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৮ হাজার ১৯৯ টাকা। এই পরিসংখ্যান মতে প্রতি বছরই বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। বিজ্ঞজনেরা বলছেন, অসচেতনতা ও নিয়মনীতি না মানার কারণেই বাড়ছে এমন ঘটনা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স-এর সাবেক সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ আকতার মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, বারবার আমরা একই কথা বলি অসচেতনতার জন্য অগ্নিকাণ্ড বাড়ে। মানুষ যতদিন না সচেতন হবে ততদিন অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকবে। তিনি বলেন, শুরুতেই আগুন নেভানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। উঁচু ভবন নির্মাণের সময় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার কথা থাকলেও তা রাখা হয় না। একই সঙ্গে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং ঘর থেকে বের হওয়ার আগে চুলা নেভানো আছে কি না তা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেন এই পরিকল্পনাবিদ।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশনস) লে. কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ২০০৩ সালে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক ছয়তলার ওপরে ভবন নির্মাণের জন্য অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয় না। ভবনে দুটি সিঁড়ির প্রয়োজন থাকলেও একটি সিঁড়ি বানানো হয়। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েন ভবনে বসবাসকারীরা। এছাড়া ইদানীং ইনটেরিয়র কাজে উচ্চদাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এতে অতিদ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো আমাদের পানির উৎস কমে গেছে। আবার ভবন অনুপাতে রিজার্ভ ট্যাংকের আকার ছোট হওয়ায় আগুন লাগলে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না। এসব কারণে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে বলে তিনি মনে করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম