মাগুরা শহরের জাহান ক্লিনিকের মালিক ও মাগুরা ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিত্সক মাসুদুল হককে ‘ভুয়া ডাক্তার’ দাবি করে তার বিরুদ্ধে অপচিকিত্সার অভিযোগ এনে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। গতকাল তার চিকিত্সা বন্ধের দাবি ও বিচারের দাবিতে শহরে ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মাগুরা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান মিরাজ, ডাক্তার বাবুল রশিদ, মঞ্জুর রহমান, শুকুর আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফরহাদ আহমেদ অভিযোগ করেন, মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করা সত্ত্বেও মাসুদুল হক নিজেকে ‘চিকিত্সক’ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত্ মাগুরায় অস্ত্রোপচারসহ নানা চিকিত্সা দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ তিনি চিকিত্সক নন। নামের সঙ্গে এমবিবিএস, পিজিটি, সিডিডি সার্জন এ ধরনের যোগ্যতার কথা উল্লেখ করলেও মাত্র রাশিয়া থেকে জোগাড় করা একটি ডিপ্লোমা সনদ আছে তার। সেখান থেকে দেশে ফিরে ডাক্তার পরিচয়ে অস্ত্রোপচারও শুরু করেন। তার ভুল অস্ত্রোপচারে অনেক রোগী মারা গিয়েছে আবার অনেকে জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছে।
মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, মাসুদুল হক নামে এক চিকিত্সকের অনিয়মের বিরুদ্ধে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. শফিউর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তার সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাই করে দেখে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে। অন্যদিকে, মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. আলী আকবর বলেন, তাকে ডায়াবেটিক হাসপাতালে আপাতত না যেতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব এর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিও কাজ করছে। অভিযুক্ত চিকিত্সক মো. মাসুদুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের জন্য বার বার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
