বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানে শেষ হলো হোপ ফেস্টিভ্যাল

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০:৩৮

কবিতা, গান, অংশগ্রহণমূলক নানা কর্মশালা, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা, তাগা ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ড, আমরা নতুন ইয়াং চেঞ্জমেকার্স অ্যাওয়ার্ড, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সমবেত গানের মাধ্যমে আজ শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) শেষ হলো ব্র্যাক হোপ ফেস্টিভ্যাল। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে আহ্বান জানানো হলো শত বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার।

তিন দিনব্যাপী চলা এ উৎসব নেমেসিস, আর্টসেল, নগর বাউল জেমসসহ মঞ্চে নানান উপস্থাপনায় শেষ হয়। আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে আশা আর সম্ভাবনার কথাই মূলত ধ্বনিত হয় এই উৎসবে। এই দেশ বিনির্মাণে যারা ভূমিকা রেখেছেন, যাদের শ্রম, ঘাম, আর হার না মানার শক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ–শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে তাদেরকেও।

ব্র্যাকের ৫০ বছরের অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হয় উৎসব। ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’, ‘সম্ভাবনার শক্তি’ ও ‘যে পৃথিবী আমরা গড়তে চাই’–এই তিনটি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছিল তিন দিনের অনুষ্ঠানমালা। 

শেষ দিনের সব আয়োজনের কেন্দ্রে ছিল তারুণ্যের জয়গান। দিনটি শুরু হয় ব্র্যাক স্কুল, কিশোর উন্নয়ন ক্লাব, ব্র্যাক কুমন ও একমাত্রা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত কবিতা, গান ও নাচের পরিবেশনার মাধ্যমে।

উৎসবের শেষ দিনটিকে উৎসর্গ করা হয় বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ও চেঞ্জমেকারদের প্রতি যারা নিজ নিজ প্রকল্পের মাধ্যমে কমিউনিটির সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয় তাদের। তরুণ প্রজন্মের চেঞ্জমেকারদের দেওয়া হয় ‘আমরা নতুন ইয়াং চেঞ্জমেকারস অ্যাওয়ার্ড’ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৩৫ বছরের কম বয়সী নারীদের এই প্রথমবারের মতো দেওয়া হয় ‘তাগা আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং প্রফেশনালস অ্যাওয়ার্ড’। 

এছাড়া ছিল জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন কৌশল নিয়ে আলোচনা। ভাষার মাসে বিশ্বের সকল মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্র্যাক ইউনিভারসিটির দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাষায় সংগীত পরিবেশনা মুগ্ধ করে দর্শকদের। 

‘যে পৃথিবী আমরা গড়তে চাই’ প্রতিপাদ্যকে উপজীব্য করে সাজানো হয় শেষ দিনের আয়োজন। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক শামেরান আবেদ বলেন, ‘আমরা মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার, জ্ঞান, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার সুযোগ তৈরি করে তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলি। আমাদের লক্ষ্য মানুষকে স্বনির্ভর করে তোলা, যাতে সে নিজেই নিজের জীবন পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে পারেন। এশিয়া ও আফ্রিকায় ১০ কোটিরও বেশি মানুষ তাদের জীবনমান পরিবর্তনের লড়াইয়ে ব্র্যাকের অংশীদার হয়ে কাজ করছেন।’ এ সময় সমতাপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তোলার লড়াইয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্‌। সব শেষে নগর বাউল জেমস-এর জমকালো পরিবেশনায় উন্মাতাল হয়ে উঠে পুরো স্টেডিয়াম। 
 
হোপ ফেস্টিভ্যালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সহআয়োজক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল বিকাশ, ব্র্যাক ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ইত্তেফাক/এএএম