১৬ দফা দাবিতে আন্দোলনে বুয়েট শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ২২:৩৩

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও মেকানিক্যাল ভবনের সামনে প্রায় ১৫ টিরও বেশি গাছ ছিল। হঠাত্ সেসব গাছ কেটে ফেলা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের নিজের হাতে গাছ লাগানোর দাবি তোলে। কিন্তু উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোন গাছ লাগানো হয়নি। এদিকে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা না করেই ঈদের ছুটির আগে হঠাত্ করে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদারকে অপসারণ করে অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিঞাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকে স্বেচ্ছচারিতা বলছেন শিক্ষার্থীরা।

এই নিয়োগ বাতিলসহ এমন ১৬ দফা দাবিতে গত চারদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা।      টানা চতুর্থ দিনের আন্দোলনে গতকাল মঙ্গলবার তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ডা. সাইফুল ইসলামের কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।  এ বিষয়ে কথা বলতে ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে উপাচার্যের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত শনিবার থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার দাবি মানা না হলে ৬ নম্বর গেট (প্রশাসনিক ভবন) এবং উপাচার্য ভবনের গেটে তালা ঝুলানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দিতে উপাচার্য অফিসে গেলে সেখানে উপাচার্যের দেখা পাননি। পরে তারা স্মারকলিপিটি সহকারী ডিএসডব্লিউ মোস্তফা আলীর হাতে তুলে দেন। রবিবার আল্টিমেটামের দ্বিতীয় দিনেও সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা সকল ক্লাস ও ল্যাব বর্জন করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বুয়েট গেটের জন্য সিভিল-আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করা, বিতর্কিত নতুন ডিএসডব্লিউকে অপসারণ, ছাত্রী হলকে ‘সাবেকুন নাহার সনি হল’ নামকরণ, নিয়মিত শিক্ষক মূল্যায়ন প্রোগ্রাম চাল করা, নির্বিচারে ক্যাম্পাসের গাছ কাটা বন্ধ করা, গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো ইত্যাদি। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী হাসান সরোয়ার সৈকত জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি উপাচার্য ভবনে থাকেন না। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রয়োজনে গেলেও তাঁর দেখা পাওয়া যায় না। আমরা এমন উপাচার্য চাইনা।’