বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

১৪ মাসেও বাস্তবায়িত হয়নি গণপরিবহন ভাড়ার প্রজ্ঞাপন

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:০৩

গণপরিবহনে ভাড়া নির্ধারণে সরকারি প্রজ্ঞাপন মানছেন না বাসমালিকরা। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীসহ চট্টগ্রাম মহানগরীতে গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এর পরের দিন ৮ নভেম্বর থেকে কার্যকর করার কথা থাকলেও গণপরিবহন মালিকরা তা মানছেন না। কোনো কোনো বাসও শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নিতে চায় না। শুক্রবার স্কুল-কলেজ বন্ধ। তাই কোনো হাফ পাশ নেই। অন্য সময় অর্ধেক ভাড়া নেয় না।

এ নিয়ে প্রতিদিন বাসযাত্রী, কনডাকটর ও হেলাপারদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হচ্ছে। এমনকি হাতাহাতির মতো ঘটনাও ঘটছে। আবার কোনো যাত্রী বেশি ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটাছেন গণপরিবহনের কোনো কোনো চালক, কনডাকটর ও হেলপার।

ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভিন্ন রুটের বাসে ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে এক টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ১৫ পয়সা করা হয়। মিনিবাসের ক্ষেত্রে এক টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ০৫ পয়সা করা হয়। বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া সাত টাকার জায়গায় ১০ টাকা এবং মিনিবাসে পাঁচ টাকার জায়গায় আট টাকা নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যা ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। কিন্তু  ১৪ মাসেও সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করছেন না বাস মালিক ও শ্রমিকরা।

এদিকে বিআরটিএর একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে বাসের সর্বনিম্ন ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয় ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা। আবার ৮ টাকার ভাড়া ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা।  কোনো গণপরিবহনেও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হয় না। রাজধানীতে রাইদা, তুরাগ, ভিক্টর পরিবহন, ৮ নম্বর, মক্কা-মদিনাসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১৪ মাস ধরে। সরকারনির্ধারিত ভাড়ার চার্ট কোনো যাত্রী দেখতে চাইলে, তা দেখাতে পারে না এসব গণপরিবহন।

এ বিষয়ে জানার জন্য বিআরটিএর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগোযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিআরটিএর কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে বাস মালিকরা ইচ্ছেমত ভাড়ায় বাস পরিচালনা করছেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী থেকে গাবতলী পর্যন্ত সড়ক পথের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটারের একটু বেশি। প্রতি কিলোমিটার দুই টাকা ১৫ পয়সা হিসাবে এই পথের বাস ভাড়া হয় ৩৬ টাকা। কিন্তু মৌমিতা নামের একটি পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয় ৫০ টাকা।

এদিকে এই বাসটি কাঁচপুর থেকে সাভার রুটে চলাচল করে। সরকারনির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা হলেও এই পরিবহনে নেওয়া হয় ২০ টাকা। কেউ এক কিলোমিটারের কম পথ অতিক্রম করলেই তার কাছ থেকেও ২০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।

আয়নাল, জয়নাল, আজম ও রাজিব নামের গুলিস্তানের চার যাত্রী বলেন, এই বাসে উঠলেই ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। গাড়িতে সরকারনির্ধারিত ভাড়ার কোনো চার্ট নেই। তারা সরকারি চার্ট মানতে চাচ্ছে না। ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে। যাত্রীরা প্রতিবাদও করে না। কারণ প্রতিবাদ করলেই নামিয়ে দেওয়া হয়। নইলে যাত্রীদের গায়ে হাত তোলে চালক, কনডাকটর, হেলপাররা।

সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গণপরিবহনে সরকারনির্ধারিত ভাড়া আদায়ের নিয়ম মানে না কেউ। বিআরটিএর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। রাজধানীতে চলাচলরত লেগুনা, বাস, মিনিবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সব গণপরিবহনে ভাড়া আদায় করা হয় ইচ্ছেমতো।

যাত্রাবাড়ী-গাবতলী রুটে চলাচলকারী ২১ নম্বর বাস (সাবেক ৮ নম্বর) বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থেকে ফার্মগেট ভাড়া নেয় ২০ টাকা। তবে যাত্রাবাড়ী-মিরপুর রুটে চলাচলকারী শিকড় পরিবহন নেয় ৩০ টাকা। একইভাবে যাত্রাবাড়ী থেকে মতিঝিল, পুরানা পল্টন, গুলিস্তানের ভাড়া সাধারণত আট টাকা। কিন্তু ট্রান্স সিলভা পরিবহন নেয় ১০ টাকা, শিকড় পরিবহন নেয় ১০ টাকা, গ্রামীণ বাংলা পরিবহন নেয় ২০ টাকা।

 

ইত্তেফাক/ইআ