বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

চীনে সেমিকনডাকটর প্রযুক্তি রপ্তানি সীমিতকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের পর জাপান, নেদারল্যান্ডসও সম্মত

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:১০

এবার যুক্তরাষ্ট্রের পর জাপান, নেদারল্যান্ডও চীনে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি রপ্তানি সীমিত করতে সম্মত হয়েছে। জাপান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা কিয়োডোর খবরে এ কথা বলা হয়েছে। 

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম এই পদক্ষেপে যায়। কেননা এর মাধ্যমে চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে সে তার সামরিক বাহিনী শক্তিশালীকরণ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হয়। তাই এর রপ্তানি থামাতে যুক্তরাষ্ট্র তত্পর হয়ে উঠে। 

এবার যুক্তরাষ্ট্রের পর জাপান, নেদারল্যান্ডও চীনে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি রপ্তানি সীমিত করতে সম্মত হয়েছে।

এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এক অঘোষিত বিরোধ শুরু হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো চীন যদি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ধরনের হুমকিস্বরূপ। 

হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি জানিয়েছেন, এ নিয়ে মিত্র দেশের সঙ্গে আলোচানার পর তারা একটি ঘোষণা দেবেন। জাপান ও ডাচ কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনায় আছেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে। কেননা এর সঙ্গে সকলের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। 

সবচেয়ে বড় কথা হলো চীন যদি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ধরনের হুমকিস্বরূপ। 
কিয়োডো নিউজের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা তীব্রতর হওয়ার কারণে  জাপান ও নেদারল্যান্ড মিত্র দেশ হিসেবে এই ভূমিকা পালন করছে। 

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চীনে সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জামের রপ্তানি বাধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও নেদারল্যান্ড। এ আচরণ পরস্পরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিশ্বের উত্পাদন ও সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতাও লঙ্ঘন করছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা তীব্রতর হওয়ার কারণে  জাপান ও নেদারল্যান্ড মিত্র দেশ হিসেবে এই ভূমিকা পালন করছে। 

চীনের মুখপাত্র জানান, নিজের আধিপত্য ও স্বার্থ রক্ষায় রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার অপব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি, অন্যান্য দেশকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই  'সেমিকন্ডাক্টর চিপ' নিয়ে বর্তমানে বেশি আলোচনার কারণ হচ্ছে এই শিল্পের বাজার ধরে রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশই। 

কে কাকে হারিয়ে এই যুদ্ধে জয়ী হবে সে লক্ষ্যেই তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। সম্প্রতি ফেদরিকো গিউলিয়ানির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন এটিকে শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সুপার কম্পিউটারে ব্যবহার করবে। আর এ কারণেই গত অক্টোবরে এই চিপগুলোর রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইত্তেফাক/ডিএস